পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর (পিওকে) দখল করে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে কাশ্মীর বা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্লোগান দেওয়ার আগে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবি জানাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ একসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গান পরিবেশন করেন।
গত সপ্তাহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ও স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)-এর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদারের লক্ষ্যেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।
অনুষ্ঠানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, তারা যদি ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ বা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান দেয়, তাহলে ফিলিস্তিনের কথা বলার আগে ‘ফ্রি পিওকে’ লেখার দাবি জানানো উচিত।
এরপরই তিনি বলেন, ভারত পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর দখল করে নেবে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে ‘হুমকির সংস্কৃতি’ রয়েছে। এই সংস্কৃতি বন্ধ করার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে আবার জাতীয়তাবাদের চেতনা ফিরিয়ে আনা হবে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশের জন্য পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট সরকারগুলোর সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি কমিউনিস্ট রাজনীতির প্রভাবে ছিল। এর ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, ভারতীয় ও বাঙালি ঐতিহ্য এবং দেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের অনেকের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি পর্যন্ত পাওয়া যায় না।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে সমঝোতা করেছিল। নির্বাচনের সময় এসব শিক্ষার্থী বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে প্রচার করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর বিরুদ্ধে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যু দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কাশ্মীরের একটি অংশ ভারতের নিয়ন্ত্রণে, আরেকটি অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভারতীয় রাজনৈতিক পরিসরে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত অংশকে সাধারণত ‘পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর’ এবং পাকিস্তানে ‘আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর’ নামে অভিহিত করা হয়।
শুভেন্দুর সর্বশেষ মন্তব্য সেই দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদ, ক্যাম্পাস রাজনীতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কও তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে আরও সামনে এসেছে।