১১ বছর আগে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশের একজন কর্মকর্তা। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দি দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. আলী আহমেদ।
জবানবন্দিতে মো. আলী আহমেদ বলেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশালের উজিরপুর থানায় সেকেন্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তৎকালীন বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসান উল্লাহ উজিরপুর থানায় যান। তিনি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলামের কক্ষে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট কথা বলে চলে যান। এরপর ওসি তাঁকে ডেকে কর্মরত এএসআই জসিম উদ্দিন ও এএসআই মাহবুবকে থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য ‘সিসি’ দিতে বলেন। ওসি জানান, তাঁরা এসপির নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন এবং এসপির তত্ত্বাবধানে থাকবেন।
আলী আহমেদ বলেন, তিনি তখন ডিউটি অফিসারকে ডেকে ওসির নির্দেশনা জানান এবং এএসআই জসিম উদ্দিন ও এএসআই মাহবুবকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য ‘সিসি’ দিতে বলেন। তিনি বলেন, পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে টেলিভিশনের শিরোনামে দেখতে পান, পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া থানা এলাকায় টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা নামে দুজন ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
আলী আহমেদ জবানবন্দিতে আরও বলেন, ওই দিন বিকেলে থানায় গেলে ওসি তাঁকে ডেকে এএসআই মাহবুব ও এএসআই জসিমকে পরবর্তী ১০ দিন কোনো দায়িত্ব না দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি ওসির নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের ডিউটি দেওয়া থেকে বিরত রাখেন। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হতে থাকে বলে আদালতকে জানান আলী আহমেদ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগৈলঝাড়ার ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনাটি এএসআই মাহবুব ও এএসআই জসিম ঘটিয়েছেন—এমন আলোচনা তাঁদের মধ্যে চলছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, তৎকালীন এসপির নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে এএসআই মাহবুব ও এএসআই জসিম ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে জানান আলী আহমেদ। জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, আগৈলঝাড়ার ওই ‘ক্রসফায়ার’ সংঘটনের কারণে এএসআই মাহবুব ও এএসআই জসিমকে ২৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল—এমন কথা তিনি শুনেছেন।
মামলায় আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহবুব, এএসআই মো. জসিম উদ্দিন এবং তৎকালীন বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ। আসামিদের মধ্যে মো. মাহবুব ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার রয়েছেন।
২০১৫ সালের ওই ঘটনায় আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।