বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশার প্রায় সাড়ে ৬০০ ব্যক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, ধর্মীয় নেতা এবং সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত দাওয়াতি সমাবেশে নতুন যোগদানকারীদের কয়েকজনের হাতে ফুল ও ধর্মীয় বই তুলে দেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। এ সময় তাঁদের জামায়াতে স্বাগত জানানো হয়।
দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাড়ে ৬০০ জনের যোগদানের কথা জানানো হলেও তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার নাম থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।
জামায়াতের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নতুন যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, বংশাল ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান বাবু, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন, ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাবেদ ওমর।
বিভিন্ন পেশাজীবীর মধ্যেও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে জামায়াত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফারুক হোসাইন এবং পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক।
এ ছাড়া জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সেলিম আহমেদ, ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, মো. ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজী শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও চিকিৎসক ডা. হুমায়ন কবিরের নামও রয়েছে তালিকায়।
ধর্মীয় অঙ্গনের কয়েকজন ব্যক্তিও জামায়াতে যোগ দিয়েছেন বলে দলটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ, বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন ও মাওলানা হাসান।
সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানান। তাঁদের হাতে ফুলের পাশাপাশি ধর্মীয় বই তুলে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশার মানুষের কোনো একটি দলে যোগদানের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে একই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের যোগদানের দাবি এবং তাঁদের মধ্যে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নাম প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক অবস্থানের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এসব যোগদান নিয়ে দলীয় রাজনীতিতে আলোচনা হতে পারে।
তবে জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে সাড়ে ৬০০ জনের যোগদানের কথা বলা হলেও তাঁদের সবার নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত ২৩ জনের তালিকাই দলটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে যাঁরা আগে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি।