এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা আপাতত কেটেছে। ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে ওই শর্তে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নিতে আর আইনি বাধা থাকছে না। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
আদেশ অনুযায়ী, হাইকোর্টে রিট করা ৪৬ শিক্ষকের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণ করতে হবে। এসব পদ বাদে অন্যান্য পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকারের আর কোনো আইনি বাধা নেই। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ভাইভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে মৌখিক পরীক্ষার সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছরের ২৫ মার্চ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতার ক্ষেত্রে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ১৮ বছর নির্ধারণ করে সংশোধনী আনা হয়। এর আগে ২০২১ সালের জনবল কাঠামোয় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য সহকারী শিক্ষক হিসেবে তিন বছরসহ মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান ছিল। পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থাও ছিল।
পরে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত যুক্ত করে বিধিমালা সংশোধন করা হলে ৪৬ জন শিক্ষক সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই শর্ত বাতিল করে রুল অ্যাবসোলিউট ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আপিল করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
সরকারি পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালতের সর্বশেষ আদেশের ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ভাইভা নেওয়ার পথ খুলেছে।
তবে রিটকারী ৪৬ শিক্ষকের জন্য নির্ধারিত ৪৬টি পদ সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ ওই পদগুলোতে আপাতত নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া বাকি পদগুলোতে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যাবে।
নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় এতদিন অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের জন্য চেম্বার আদালতের এ আদেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে আইনি বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। ফলে পরবর্তী আদালতের আদেশও নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।