আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ‘আইএমএফের প্রোগ্রাম ক্যানসেল করে দিয়েছি’ এবং সংস্থাটির কোনো শর্ত আর মানা হবে না—অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, সেটিও কি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে?
তবে আইএমএফের প্রকাশ্য তথ্য বলছে, বিষয়টি এত সরল নয়। গত ৩ জুন সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল, বাংলাদেশ নতুন একটি আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে। এরপর জুলাইয়ে আইএমএফের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে নতুন কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার, নীতিগত সংস্কার ও শর্ত নিয়ে আলোচনা করে। মিশন শেষে আইএমএফ বলেছিল, এসব বিষয়ে আলোচনা আগামী মাসগুলোতেও চলবে। অর্থাৎ অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে পুরনো কর্মসূচি বাতিলের কথা থাকলেও **নতুন কর্মসূচির আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা এখন পর্যন্ত আইএমএফের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি**। বরং ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ঠিক আগে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন কর্মসূচির আলোচনাই এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের অর্থের ওপর নির্ভর না করে সরকার দেশের নিজস্ব আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী করতে চায়। তার ভাষায়, ‘আইএমএফ টাকা দেবে, বিশ্বব্যাংক টাকা দেবে—এটা ভুলে যান। আমি আইএমএফের প্রোগ্রাম ক্যানসেল করে দিয়েছি। তাদের শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, আইএমএফের আর কোনো শর্ত বাংলাদেশ মানবে না।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে তার বিকল্প অর্থায়ন পরিকল্পনার কথাও ছিল। তিনি পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থায়নের বড় উৎস হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তার বক্তব্য, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ বা উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব আর্থিক বাজার থেকেই অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ইজ দ্য আন্সার, বন্ড মার্কেট ইজ দ্য আন্সার’—বলেন তিনি।
কিন্তু এখানেই বাস্তবতার সঙ্গে বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফারাক সামনে আসে।
পুরনো কর্মসূচি ও নতুন কর্মসূচি এক বিষয় নয়
বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচিতে যায়। পরে কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে মোট অর্থায়ন প্রায় ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ অর্থ পেয়েছে এবং এর সঙ্গে রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, জ্বালানি মূল্য, ভর্তুকি ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংস্কারের শর্ত যুক্ত ছিল।
কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরনো কর্মসূচি থেকে বের হয়ে নতুন একটি কর্মসূচির জন্য আইএমএফের কাছে আবেদন করে। ৩ জুন আইএমএফ নিজেই জানায়, বাংলাদেশ নতুন আইএমএফ-সমর্থিত আর্থিক ব্যবস্থার জন্য আবেদন করেছে। সংস্থাটি তখন স্পষ্ট করে বলেছিল, নতুন কর্মসূচির আকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনায় যাওয়া হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আইএমএফের জুনের এক ব্রিফিংয়ে বলা হয়—নতুন কর্মসূচি নিয়ে স্টাফ-লেভেল সমঝোতা হলে এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় গেলে আগের কর্মসূচি বাতিল হওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। অর্থাৎ পুরনো কর্মসূচি বাতিল হওয়া এবং নতুন কর্মসূচির আলোচনা বাতিল হওয়া একই ঘটনা নয়। এ কারণেই অর্থমন্ত্রীর ‘প্রোগ্রাম ক্যানসেল’ মন্তব্যকে সরাসরি নতুন ঋণ আলোচনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা হিসেবে পড়লে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
নতুন কর্মসূচির সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকায় অবস্থান করে। দলটির নেতৃত্ব দেন আইএমএফের ইভো ক্রজনার। সফর শেষে ক্রজনার বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি, সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার এবং সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির আকার, কাঠামো এবং এর সঙ্গে যুক্ত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগামী মাসগুলোতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
আইএমএফের মূল্যায়নে বাংলাদেশের সামনে তখনও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতির চাপ ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আমদানি ও ভর্তুকি ব্যয় বাড়িয়ে সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়। সুতরাং জুলাইয়ে আইএমএফের অবস্থান ছিল—বাংলাদেশ নতুন কর্মসূচি চেয়েছে, আলোচনা চলছে এবং সংস্কারের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে সম্ভাব্য কর্মসূচির আকার নির্ধারণ করা হবে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য এবং আইএমএফের অবস্থানের মধ্যে টানাপোড়েনটি মূলত ঋণ নেওয়া বা না নেওয়ার চেয়ে ঋণের সঙ্গে যুক্ত সংস্কারের শর্ত নিয়ে।
আইএমএফের কর্মসূচিতে সাধারণত রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভর্তুকি ও সরকারি ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আগের কর্মসূচিতে এসব সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এবারের আলোচনায় পরিস্থিতি আরও কঠিন। আইএমএফের জুলাইয়ের মূল্যায়নেই বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কথা উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলেছে, রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা মোকাবিলা করলে মধ্যমেয়াদে অর্থনীতির সম্ভাবনা উন্নত হতে পারে।
অন্যদিকে সরকারের সামনে এখন জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সামাজিক ব্যয়, সরকারি বেতন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মতো একাধিক চাপ রয়েছে। এসব খাতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই কঠিন।
ফলে সরকারের অবস্থান যদি হয়—সংস্কার হবে, কিন্তু আইএমএফের নির্ধারিত সময়সূচি ও কঠোর শর্তে নয়; তাহলে আলোচনার মূল জায়গাতেই দর-কষাকষির প্রশ্ন তৈরি হবে।
নতুন কর্মসূচির ক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণ সম্ভবত বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। আইএমএফের জুনের বিবৃতিতে বাংলাদেশের বড় দুর্বলতার মধ্যে ‘লো রেভিনিউ মোবিলাইজেশন’ বা কম রাজস্ব আহরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ সরকার যদি একদিকে করের বোঝা কমাতে চায়, ব্যবসা-বিনিয়োগে প্রণোদনা দিতে চায় এবং অন্যদিকে বাজেটের ব্যয় বাড়ায়, তাহলে ঘাটতি পূরণে অর্থের উৎস কোথায় হবে—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এখানেই অর্থমন্ত্রীর পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটের ওপর নির্ভরতার পরিকল্পনা সামনে আসে। কিন্তু দেশের পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহ করতে হলে বাজারের আস্থা, বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা, করপোরেট সুশাসন এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রয়োজন। ফলে এটি তাৎক্ষণিকভাবে আইএমএফের অর্থায়নের বিকল্প হয়ে উঠবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরেকটি বড় চাপ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়েছে বলে আইএমএফও তাদের জুলাইয়ের মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে। সরকারকে একদিকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জ্বালানির দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে; আবার দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকি বাড়ালে সরকারি ব্যয় বাড়ে। আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় তাই শুধু ‘ঋণ নেব কি নেব না’—এ প্রশ্ন থাকবে না। বরং সরকার কীভাবে ভর্তুকি, রাজস্ব, সরকারি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য করবে, সেটিই আলোচনার বড় বিষয় হতে পারে।
আইএমএফের নতুন কর্মসূচির আরেকটি বড় ক্ষেত্র হবে ব্যাংকিং খাত। সংস্থাটি জুনে এবং জুলাইয়ের মিশন শেষে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ব্যাংকের খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের সুশাসন—এসব জায়গায় সংস্কার ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো কঠিন। কিন্তু এসব সংস্কারের অনেকগুলোরই তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। ফলে নতুন কর্মসূচির ক্ষেত্রে সরকারের ‘নিজস্ব পথ’ অনুসরণের অবস্থান এবং আইএমএফের কাঠামোগত সংস্কারের প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় করাই হবে বড় পরীক্ষা।
আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ঢাকার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর ব্যাংককের বৈঠক নতুন কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে বার্ষিক সভা নিজে নতুন ঋণ চুক্তি অনুমোদনের জায়গা নয়। নতুন কর্মসূচির আকার, অর্থের পরিমাণ, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শর্ত নিয়ে আলোচনা শেষে আইএমএফের নিজস্ব অনুমোদন প্রক্রিয়া রয়েছে। জুনের বিবৃতিতেও সংস্থাটি বলেছে, নতুন ব্যবস্থা আইএমএফের নীতিমালা এবং নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনের আওতায় থাকবে। অর্থাৎ ব্যাংককে আলোচনা হতে পারে, অবস্থান পরিষ্কার হতে পারে, দর-কষাকষির নতুন ধাপ শুরু হতে পারে; কিন্তু সেখানেই নতুন ঋণ চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাটি হলো—সরকার আগের আইএমএফ কর্মসূচির কাঠামো থেকে বের হয়ে নতুন শর্তে নতুন কর্মসূচি নিয়ে দর-কষাকষি করতে চাইছে —এমন একটি ব্যাখ্যার সঙ্গে ঘটনাপ্রবাহের বেশ কিছু অংশ মিলে যায়। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য যদি আক্ষরিক অর্থে নেওয়া হয়—বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে সব ধরনের নতুন আলোচনা বাতিল করেছে—তাহলে সেটি আইএমএফের সর্বশেষ প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে মেলে না। কারণ ৩ জুন সংস্থাটি নতুন কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশের আবেদন পাওয়ার কথা জানিয়েছে এবং জুলাইয়ে সেই কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা বলেছে। এখন পর্যন্ত আইএমএফের কোনো প্রকাশ্য বিবৃতিতে ‘বাংলাদেশ নতুন কর্মসূচির আলোচনা বাতিল করেছে’—এমন ঘোষণা নেই।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করেছেন, উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের ওপর নির্ভরশীল আর্থিক কাঠামো থেকে সরে এসে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে বড় অর্থায়নের উৎস করতে চায় সরকার। তিনি বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে যেতে বাংলাদেশের প্রতিবছর বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং শুধু আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক বা এডিবির অর্থ দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই আপাতত যে চিত্রটি পাওয়া যাচ্ছে তা হলো— আইএমএফ থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা এবং নতুন কর্মসূচির আলোচনা চলার বাস্তবতা পাশাপাশি রয়েছে। পুরনো কর্মসূচি বাতিল করা হয়ে থাকলেও নতুন কর্মসূচির দরজা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। বরং আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্যাংককের বৈঠক এবং পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনাই স্পষ্ট করবে, সরকার আইএমএফের অর্থায়ন পুরোপুরি এড়িয়ে নিজস্ব অর্থবাজারের ওপর নির্ভর করতে যাচ্ছে, নাকি কঠোর শর্তের কিছু পরিবর্তন আদায় করে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচিতে যেতে চাইছে।
বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত শুধু ‘আইএমএফের টাকা নেওয়া হবে কি না’—সেখানে আটকে থাকবে না। প্রশ্ন হবে, বৈদেশিক অর্থায়ন ছাড়াই বাড়তি রাজস্ব, জ্বালানি ব্যয়, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও বড় সরকারি ব্যয়ের চাপ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে। আর যদি আইএমএফের নতুন কর্মসূচিতে যেতেই হয়, তাহলে কতটা শর্ত সরকার নিজের মতো করে পরিবর্তন করাতে পারে—ব্যাংককের আলোচনায় সেটিই হতে পারে মূল দর-কষাকষি।