আইনি বৈধতা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিয়েও মতভিন্নতা

সংবিধান সংস্কারে অনড় বিরোধীরা, শেষ পর্যন্ত কি একতরফা সিদ্ধান্ত

বিশেষ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১১
 ছবি:

সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য থাকলেও সেই পরিবর্তনের পথ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর বিরোধ। বিএনপি সরকার বিদ্যমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংশোধনের পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দাবি, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই পরিবর্তন আনতে হবে।

এই বিরোধ এখন কেবল সংশোধন না সংস্কার—সেই শব্দগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতার ভিত্তি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পদ্ধতি। বিরোধীরা সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোবে কি না সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানালেও তাদের অনুপস্থিতিতে কাজ থামিয়ে রাখার পক্ষে নন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য বলছে, গণভোটের রায় এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গণভোটের রায় ও শপথ নিয়ে বিরোধ

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ নির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ গ্রহণ করে। পরে নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন। ওই আদেশের ভিত্তিতে গণভোটের আয়োজন করা হয়।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট পড়ে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্যরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য—দুই হিসেবেই শপথ নেন।

সরকার গঠনের পর বিএনপি জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা হবে, তবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো বাদ দিয়ে। বিরোধীদের বক্তব্য, গণভোটে যে সনদের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সেখান থেকেই পরিবর্তন আনতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ কাজী জাহেদ ইকবাল মনে করেন, সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংস্কারের মূল বিষয়গুলো নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে দৃশ্যমান দূরত্ব কম। মূল বিরোধ পরিবর্তন আনার পদ্ধতি নিয়ে।

তার ভাষ্য, সংবিধানের ভেতরে থেকে সংসদের মাধ্যমে সংশোধনী আনা হবে, নাকি সংসদের বাইরে পৃথক সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে পরিবর্তন কার্যকর হবে—এটাই এখন প্রধান প্রশ্ন। বিরোধীদের আশঙ্কা, সাধারণ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংশোধন আনা হলে ভবিষ্যতে একই সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে তা আবার পরিবর্তন বা বাতিল করা সম্ভব হবে। এ কারণে তারা পৃথক সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে টেকসই পরিবর্তন চান।

তবে সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে পৃথক সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ আইনি দিক থেকে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন কাজী জাহেদ ইকবাল।

৫ আগস্টের পর সংবিধানের অবস্থান কী ছিল

সংবিধান সংস্কারের বিতর্কে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিদ্যমান সংবিধান কার্যকর ছিল কি না, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়ার মতে, জনগণই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক। সরকার যখন জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং তাদের হত্যা করতে শুরু করে, তখন ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরে যায়। তিনি এ ধারণাকে ‘বিপ্লবী সাংবিধানিকতাবাদ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার বক্তব্য, গণঅভ্যুত্থানের ফলে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের আগের সাংবিধানিক চুক্তি গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হয় এবং পুরোনো সাংবিধানিক ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। ৫ আগস্টের পর নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের কার্যক্রম কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল দাবি করে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতার প্রশ্নে আপিল বিভাগের ১০৬ অনুচ্ছেদের মতামতের ওপর নির্ভর করাকেও অবাস্তব বলে মনে করেন। তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকার আদালতের মতামতের বদলে জনগণের ‘বিপ্লবী ম্যান্ডেট’ থেকেই বৈধতা পেয়েছে।

লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানও মনে করেন, ৫ আগস্টের পর বিদ্যমান সংবিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। তার মতে, রাষ্ট্র এখন প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসারে চলছে; প্রয়োজন অনুযায়ী ১৯৭২ সালের সংবিধানের কিছু অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে সংবিধান পুরোপুরি বাতিল বা অকার্যকর হয়ে যায়নি বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তার যুক্তি, ৫ আগস্টের পরও প্রশাসনিক কার্যক্রম, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও অধ্যাদেশের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। ফলে সংবিধানকে সম্পূর্ণ বাতিল বলা যায় না। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীসংক্রান্ত মামলার রায়ে ব্যবহৃত ‘পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজড’ নীতির কথাও তিনি তুলে ধরেন।

এই মতভিন্নতা দেখায়, সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে।

সংস্কার পরিষদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিকী। তার মতে, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় আসার পর ওই আদেশ অনুসারে পরিষদ গঠন করা শুধু আইনগত নয়, রাজনৈতিকভাবেও বাধ্যবাধকতা। তিনি মনে করেন, সংস্কার পরিষদ গঠন না করে অন্য কোনো পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ জুলাই জাতীয় সনদ ও জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট থেকে বিচ্যুতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

অন্যদিকে মনজিল মোরসেদ গণভোটের পেছনে থাকা রাষ্ট্রপতির আদেশের আইনগত ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধনসংক্রান্ত কোনো আদেশ জারির এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির নেই। ফলে ওই ভিত্তিতে জারি করা আদেশ আইনগতভাবে টেকসই নয়।

এখানেই বিরোধের জটিলতা। এক পক্ষ গণভোট ও বাস্তবায়ন আদেশকে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেটের ভিত্তি হিসেবে দেখছে। অন্য পক্ষ বিদ্যমান সংবিধানের বাইরে গিয়ে সেই আদেশের ভিত্তিতে পৃথক পরিষদ গঠনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

উচ্চকক্ষ নিয়ে একমত নন বিশেষজ্ঞরা

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা থাকলেও উচ্চকক্ষের গঠন, সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি ও ক্ষমতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবে ভিন্নতা রয়েছে। সলিমুল্লাহ খান উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার পক্ষে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটের আনুপাতিক হারে সদস্য মনোনয়নের বিরোধিতা করেন তিনি। তার প্রস্তাব, প্রতিটি জেলা থেকে সরাসরি ভোটে দুজন করে সদস্য নির্বাচিত করে ১২৮ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন করা যেতে পারে। রাষ্ট্রপতি ও উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতাও এ কক্ষের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি।

অন্যদিকে শরীফ ভূঁইয়া উচ্চকক্ষে ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে। তার মতে, এতে নিম্নকক্ষে কম আসন পাওয়া বা কোনো আসন না পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলোও ভোটের অনুপাতে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। তবে উচ্চকক্ষের হাতে নিম্নকক্ষের আইন সরাসরি বাতিলের ক্ষমতা না দিয়ে আপত্তি থাকলে বিল পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা রাখার পক্ষে তিনি।

মনজিল মোরসেদ অবশ্য উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখেন না। তার মতে, অনির্বাচিত কোনো উচ্চকক্ষ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদের পাস করা আইন বাতিলের ক্ষমতা পেলে তা সংবিধানের ৭ ও ৬৫(১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় এতে রাষ্ট্রের ব্যয়ও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

৭০ অনুচ্ছেদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। শাহদীন মালিকের আশঙ্কা, বাজেট ও সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য সাধারণ বিলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার অবাধ সুযোগ তৈরি হলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও করপোরেট গোষ্ঠী সংসদ সদস্যদের প্রভাবিত করতে পারে। এতে জনস্বার্থে আইন পাস করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে শরীফ ভূঁইয়া অর্থ বিল ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার পক্ষে। তবে তার মতে, রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তন না হলে শুধু কাগজে-কলমে বিধান যুক্ত করে স্বাধীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা যাবে না।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রশ্নেও রয়েছে ভিন্ন প্রস্তাব। মনজিল মোরসেদ সংবিধানের সাবেক ৫৮(গ) অনুচ্ছেদ অনুসরণের পক্ষে। স্পিকারকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান করার ধারণার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, স্পিকার সাধারণত দলীয় ব্যক্তি হওয়ায় তার নেতৃত্বে প্রকৃত নির্দলীয় সরকার পরিচালনা কঠিন। শরীফ ভূঁইয়া সরকার ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের পক্ষে। দুই পক্ষ একমত হতে না পারলে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমিত রাখার প্রস্তাব সমর্থন করেন মনজিল মোরসেদ। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবিধানের মৌলিক কাঠামো

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের অবস্থান এক নয়। সলিমুল্লাহ খান অতীতে বিচার বিভাগের ভূমিকার সমালোচনা করে একে ‘জুডিশিয়াল অ্যাডভেঞ্চারিজম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের আগে প্রার্থীদের বাংলা ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। তার মতে, সংবিধানের আলাদা কোনো অংশকে মৌলিক কাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করার চেয়ে পুরো সংবিধানকেই মৌলিক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এর মূল ভিত্তি হবে জনগণের সার্বভৌমত্ব।

অন্যদিকে মনজিল মোরসেদ মনে করেন, সংবিধানের মৌলিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতা বহাল রাখা জরুরি। নির্বাহী বিভাগের অসাংবিধানিক পদক্ষেপ ঠেকাতে এ ক্ষমতা প্রয়োজন বলে তার যুক্তি।

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে থাকা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কাজী জাহেদ ইকবাল। তার প্রস্তাব, প্রতি বছর জাতীয় বাজেট পেশের আগে এসব মূলনীতির অগ্রগতি নিয়ে সংসদে বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন উপস্থাপনের বিধান রাখা যেতে পারে।

বিরোধীদের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় ফেরার পরামর্শ

সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের পর বিরোধী দলগুলো তা প্রত্যাখ্যান করে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে। কমিটিতে বিরোধীদের জন্য পাঁচটি সদস্যপদ রাখা হলেও তারা কোনো নাম দেয়নি। তাদের বক্তব্য, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংস্কারের পক্ষে থাকলেও বর্তমান পদ্ধতিতে সংসদীয় কমিটি গঠনের সঙ্গে তাদের নীতিগত ও ধারণাগত মতপার্থক্য রয়েছে।

তবে প্রক্রিয়াগত আপত্তি জানাতে গিয়ে পুরো সংস্কার কার্যক্রম বর্জন করা উচিত নয় বলে মনে করেন ইমরান এ সিদ্দিকী। তার মতে, বিরোধীরা দূরে থাকলে সরকারি দল নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ পাবে। তাই কমিটিতে অংশ নিয়ে আপত্তি জানানো এবং প্রয়োজনে ভিন্নমত আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ রাখা উচিত।

কাজী জাহেদ ইকবালও মনে করেন, সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তবতায় বিরোধীদের আলোচনার টেবিলে থাকা জরুরি। এতে নিজেদের মৌলিক দাবিগুলো সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

সরকার অপেক্ষা করবে, তবে থামবে না

বিরোধী দলগুলো অংশ না নিলেও সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ১৩ অক্টোবর সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক শেষে তিনি বলেন, বিরোধীদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তারা না এলে সরকারকে সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন জাতির প্রত্যাশা এবং সরকারের অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, গণভোটের রায় এবং ৪৮টি সংস্কার ইস্যু বাস্তবায়নের প্রশ্নে তাদের কোনো ছাড় নেই। এ দাবিতে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই আন্দোলন চলবে।

সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে ‘সংস্কার’ করার বিধান নেই; তাই সংবিধান সংশোধন করতে হবে। বিরোধীদের অনুপস্থিতিতে আইনি সংকট তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিরোধী দলকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে সমন্বিত প্রতিবেদন সংসদে দেওয়া হবে।

তবে বিরোধীরা না এলেও একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, অতীতের সরকারের মতো একতরফা কিছু করতে চান না তারা। বিরোধী দল ও সংসদ সদস্যদের মতামত নিয়েই সংশোধনের পথে এগোতে চান। ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির কাজ শেষ করে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদে বিল উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সরকারি প্রস্তুতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধীদের অনড় অবস্থানের মধ্যে সমঝোতার জায়গা এখনো স্পষ্ট নয়। একদিকে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংশোধনের পক্ষে সরকার, অন্যদিকে পৃথক সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে পরিবর্তনের দাবিতে বিরোধীরা। এই অচলাবস্থা কাটাতে রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে সংবিধান পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়েই নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

১

তিন দিনের সফরে ঢাকায় চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং

২

বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ির দ্বিতীয় আসর

৩

উদয়ন স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

৪

গোলকধাঁধায় সাফ আয়োজন, বুধবার হচ্ছে না ট্রফি উন্মোচন

৫

প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় লালমনিরহাটের নিউ অতিথি ক্লিনিক সিলগালা

৬

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কার দখলে যাচ্ছে, বদলে দিতে পারে যে তিন দৃশ্যপট

৭

নেতানিয়াহুকে সরাতে আইজেনকোটের পাশে ইসরায়েলের বিরোধী নেতারা

৮

সংবিধান সংস্কারে অনড় বিরোধীরা, শেষ পর্যন্ত কি একতরফা সিদ্ধান্ত

৯

মজুরি আন্দোলনে নেই পরিচিত সংগঠন, নেতৃত্বহীনতায় মাঠে শ্রমিকরা

১০

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ

১১

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের ৪০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি: পিআইবিসি প্রধান

১২

২৪-এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করল ৭১-এর রাজাকার: রাশেদ খাঁন

১৩

জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে আনার বিষয়ে আমরা বিরোধিতা করেছি: ছাত্রদল নেতা নাছির

১৪

মারুফাকে ছাড়াই ইমার্জিং ট্রফির দল, নেতৃত্বে নাহিদা

১৫

নিরাপত্তা উদ্বেগে ১১ মাস পিছিয়ে গেল এশিয়ান কাপ

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত