ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি সামরিক অস্ত্রাগারে রুশ ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে। বিস্ফোরণের পর প্রায় ৪০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কিয়েভের পশ্চিমে মিলা গ্রামের একটি আবাসিক এলাকার পাশে অবস্থিত ওই সামরিক গুদামে শুক্রবার গভীর রাতে হামলা চালানো হয়। একটি ড্রোন আঘাত হানার পর গুদামে থাকা মাইন, শেল ও ড্রোনে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের অন্তত ১৩০টি ঘরবাড়ি এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের একটি পরিচর্যা কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভের পশ্চিমে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও সেগুলোর লঞ্চ বুস্টার সংরক্ষিত একটি সামরিক গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিয়েভের কাছে কোনো সামরিক গোলাবারুদের গুদামে এটি দ্বিতীয় হামলা। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকার এত কাছে বিপজ্জনক বিস্ফোরক সংরক্ষণ নিয়ে ইউক্রেনজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের এত কাছে বিস্ফোরক রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি দায়িত্বশীলদের চরম অবহেলার পরিচয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েভ সামরিক বাহিনী পরিচালিত ওই গুদামের বিষয়ে ইতোমধ্যে অপরাধমূলক তদন্ত ও ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পঞ্চম বছরেও একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি গুরুতর অপরাধের শামিল। এর আগে গত জুলাইয়ে ভিশনেভে শহরের একটি সামরিক গুদামে বিস্ফোরণে নয়জন নিহত এবং বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল। পূর্বের ঘটনা থেকে শিক্ষা না নেওয়ার জন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে কিয়েভের অন্যান্য এলাকাতেও রুশ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ওবোলনস্কি শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, শনিবার ভোররাতে রুশ ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে দুই বছরের একটি শিশু নিহত হয়েছে। বরিসপিল জেলায় পৃথক এক হামলায় ১৪ বছরের এক কিশোর নিহত হয়। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনজুড়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রুশ হামলায় তারা অন্তত ২৩৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেলগোরোদ ও রোস্তভ অঞ্চলে দুজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার বড় দুই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’ ও ‘ওজোন’-এর লজিস্টিক সেন্টারেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের দাবি, এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রুশ সামরিক বাহিনীকে পরোক্ষভাবে সরঞ্জাম সরবরাহ করছিল। হামলায় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ওজোন কর্তৃপক্ষ তাদের একাধিক কেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি