বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বারবার আঘাতের শিকার হয়েও ছাত্রদল তার স্বতন্ত্র ও স্বাধীন সত্তা বিসর্জন দেয়নি। এ কারণেই সংগঠনটির কাউকে ‘গুপ্ত’ বলা হয় না। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নিচতলায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার বিষয় ছিল ‘বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য; এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সুরক্ষার অঙ্গীকার’।
রিজভী বলেন, ছাত্রদলের গর্ব করার মতো একটি বিষয় রয়েছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময়ে আঘাত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত নেতারা ক্যাম্পাসে মিছিল করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেকে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই আঘাতের পরও তারা যেভাবে তাদের অস্তিত্ব, ইন্ডিপেনডেন্ট বা স্বতন্ত্র স্বাধীন সত্তা বিসর্জন দেয়নি, বলেই তাদের কেউ গুপ্ত বলে না।’
আলোচনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে স্মরণ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দমন-পীড়নের সময়ে একের পর এক আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আবরার হত্যাকাণ্ডের পর মানুষের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করেছিল, তাদের মধ্যে প্রতিবাদ করার শক্তি তখনো বিদ্যমান ছিল।
রিজভী বলেন, আবরার ফাহাদের মৃত্যু পরবর্তী সময়ের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে। তাঁর ভাষায়, আবরারের আত্মদানের চরম পরিণতির একটি পর্যায় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ।
সভায় শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন চুক্তি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখাই ছিল তাঁর ছেলের ‘অপরাধ’। এ কারণে বুয়েটের হলে কয়েক ঘণ্টা নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আবরার হত্যার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রহমত উল্লাহ।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং আদালতের রায়েও বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, আবরার হত্যার পর তৎকালীন বুয়েট কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ না করে পুরো ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল, যা ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিফলন। তিনি বলেন, আবরারসহ বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতার আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পথ তৈরি করেছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর, ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।