পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই পুরস্কারের সাথে যোগ হবে গাছের চারা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

“বৃক্ষ রোপণ করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাব, গ্রীণ কক্সবাজার, প্রান্তিক চাষী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৬০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। প্রধান আলোচক ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কক্সবাজার জেলা শাখার  আহবায়ক , কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি  ফজলুল কাদের চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কক্সবাজার জেলা আহবায়ক ও কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক  এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আলম, ধরিত্রীর রক্ষায় আমরা (ধরা) কক্সবাজার জেলা শাখার সহ সদস্য সচিব    শামসুল আলম শ্রাবণ, ধরা জেলা শাখার সদস্য,  উত্তরণ মডেল কলেজের প্রভাষক রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য মো. ইউসুফ, স্টুডেন্ট প্ল্যান্টার্স ক্লাবের সমন্বয়ক,  শিক্ষক জসিম উদ্দিন,  সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম সহ বিদ্যালয়ের প্লানটার্স ক্লাবের শিক্ষার্থী  ও অভিভাবক বৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন হিসেবে গড়ে তুলতে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বিনামূল্যে চারা বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের হাতে একটি গাছ রোপণ করে এবং সেটির পরিচর্যা করে, তখন তার মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সবুজে ঘেরা পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।”

ইউএনও আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করলে তাদের বই, কলম বা ক্রেস্টের পাশাপাশি একটি গাছের চারা উপহার দেওয়া হবে । এতে শিক্ষার্থীরা যেমন উৎসাহিত হবে, তেমনি পরিবেশও উপকৃত হবে।” প্রধান আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, “শিক্ষা ও পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক। একটি সবুজ শিক্ষাঙ্গন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সুস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

 

তিনি আরও বলেন, “একটি গাছ কেটে ফেলা মানে ২৭ জন মানুষকে হত্যা করার সমান ক্ষতি। তাই গাছ কাটার পরিবর্তে বেশি বেশি গাছ রোপণ ও পরিচর্যায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ অতিথি এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন বলেন, প্রকৃতি আমাদের প্রতিদিন যে অক্সিজেন বিনামূল্যে দিচ্ছে, তা যদি কৃত্রিমভাবে কিনে ব্যবহার করতে হতো, তবে একজন মানুষের প্রতিদিন বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। তাই পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, আগামী ৬ মাস পর যেসব শিক্ষার্থীর হাতে চারা তুলে  দেয়া হচ্ছে তাদের বাড়িতে গিয়ে রোপণকৃত চারার মান নির্ণয় করে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

 

বিশেষ অতিথি কলেজ প্রভাষক রিয়াজ উদ্দিন জানান, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথির নেতৃত্বে সকলে মিলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ  করেন এবং প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থীর হাতে ৬০০টি গাছের চারা তুলে দেয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির  সমাপ্তি ঘোষণা  করেন।

 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল করিম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কক্সবাজার জেলা শাখার সহ সদস্য সচিব,  সিনিয়র সাংবাদিক শামসুল আলম শ্রাবণ।

 

 

শু/আজা

 

বিষয়:

কক্সবাজার
এলাকার খবর

সম্পর্কিত