জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে গভীর রাতে এক সংখ্যালঘু কবি ও সাংবাদিকের বাড়িতে ওয়ারেন্ট কার্যকরের নামে পুলিশের অভিযানে গালাগাল, হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, তিনি সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালত থেকে আগেই জামিন পেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, আদালতের রি-কল (Recall) আদেশের একটি কপি গত ২১ জুলাই সরিষাবাড়ী থানায় জমাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও শনিবার দিবাগত রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বাড়িতে যায়।
অভিযোগের তীর সরিষাবাড়ী থানার তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মহিবুল্লার নেতৃত্বাধীন একটি দলের বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাত ২টার অভিযানে আতঙ্ক
ভুক্তভোগী কবি ও সাংবাদিক প্রদীপ চন্দ্র মম জানান, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে দরজায় জোরে কড়া নাড়ার শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চাইলে বাইরে থেকে বলা হয়, "আমরা পুলিশ, সরিষাবাড়ী থানা থেকে এসেছি।"
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য ঘরে প্রবেশ করেন।
তাঁর অভিযোগ, আমাকে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই তাঁকে হ্যান্ডকাফ পরানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি এর কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা প্রথমে কোনো উত্তর দেননি। পরে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে জানানো হয়, তাঁর নামে আদালতের ওয়ারেন্ট রয়েছে।
সাংবাদিক মম আরও বলেন, তিনি সঙ্গে সঙ্গে জানান যে, ওই মামলায় তিনি আগেই জামিনে রয়েছেন। এরপর আদালতের রি-কলের কপি পুলিশকে দেখান। তাঁর দাবি, ওই রি-কলের একটি কপি গত ২১ জুলাই সরিষাবাড়ী থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছিল, ফলে থানার নথিতেও তাঁর জামিনের তথ্য থাকার কথা।
তাঁর অভিযোগ, এরপরও পুলিশ কোনো ধরনের দুঃখ প্রকাশ না করে তাঁকে এবং সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অশালীন ভাষায় গালাগাল করে এবং "দেখে নেওয়ার" হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।ঘটনার সময় বাড়িতে সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। হঠাৎ গভীর রাতে একদল পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন বলে জানান তিনি।
আদালতের নথিতে জামিনের তথ্য
ভুক্তভোগীর দেওয়া আদালতের নথিতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট মামলায় তিনি আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। মুক্তির পর তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানা (যদি থেকে থাকে) প্রত্যাহার বা ফেরতের বিষয়ে আদালতে আবেদনও করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, সেই রি-কল আদেশের একটি কপিও ২১ জুলাই সরিষাবাড়ী থানায় জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টি সম্পর্কে তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের আইসি জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক পল্লীকন্ঠকে বলেন, আমি নিয়োগ পরীক্ষায় ছিলাম। বিষয়টা জানি না। তবে, রি-কল প্রাপ্তিতে দেরি হলে এরকম হয়। হয়তো আমাদের হাতে এখনো সরিষাবাড়ী থানা থেকে রি-কলটি আসে নাই। তাই গ্রেপ্তারের জন্য গিয়ে থাকতে পারে। আমি ছুটিতে ছিলাম আমার জানতে হবে কি হয়েছে।
সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেও গালিগালাজ, রাগারাগি, হুমকি এগুলি করার কথা না। অতিরিক্ত বলাবলি।
উল্লেখিত বিষয়ে জানতে চাইলে সরিষাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হাসান দৈনিক পল্লীকন্ঠকের প্রতিনিধিকে জানান, জামিনে থাকা আসামীকে গ্রেপ্তার করার কোন সম্ভাবনা নাই। যদি এমন কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।
শু/আজা