রংপুরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ কার্যালয়ে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত নেসকো কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধান ফটক খোলা থাকলেও ভেতরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। সকাল ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষের সামনে একজন অফিস সহায়ক ছাড়া অন্য কোনো কর্মচারী ছিলেন না। পরে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে প্রধান কার্যালয়ের তালা খোলা হয়।
দেরির কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বরত এক কর্মচারী ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যার কথা জানান। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলোও তালাবদ্ধ ছিল। এরপর ধীরে ধীরে সহকারী প্রকৌশলীরা অফিসে আসতে শুরু করেন।
সহকারী প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম বলেন, আগের রাতে অতিরিক্ত সময় কাজ করায় তার দেরি হয়েছে। তবে একই সময়ে পাশের টেবিলের আরেক প্রকৌশলীও অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।
সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমানকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। কর্মচারীরা সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তার কক্ষের বাতি ও পাখা চালু করলেও তিনি তখনও অফিসে আসেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায়ই সকাল ১০টার পর অফিসে আসেন।
এদিকে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে। গোমস্তাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী অভিযোগ করেন, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নিয়ে দুই দিন ধরে কার্যালয়ে ঘুরলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার দাবি, জুন মাসে ৩৪১ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও ১১ হাজার ৩০০ টাকার বিল এসেছে, যেখানে বিল প্রায় ৩ হাজার টাকার মধ্যে হওয়ার কথা।
নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রওশন আরা বলেন, নেসকো অফিস নিয়মিত ১০টার আগে কার্যত চালু হয় না। কর্মকর্তারা নিজেদের সুবিধামতো আসেন, ফলে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যায় না।
বিদ্যুৎ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে সময়মতো কার্যক্রম শুরু না হওয়া এবং কর্মকর্তাদের অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শু/আজা