রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ৫০–৬০ বছরের পুরোনো একটি বিশাল চুন্দুল গাছের ডাল ভেঙে একটি রান্নাঘরের ওপর পড়েছে। এতে রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ঘটনার সময় সেখানে কেউ না থাকায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় আশপাশের অন্তত আটটি পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ব্যাঙছড়ি মুসলিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের খাবার শেষে মনির আহমেদ ও তাঁর সন্তানরা শয়নকক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী রান্নাঘরে রান্নার কাজ করছিলেন। রান্না শেষ করে তিনি রান্নাঘর থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে পাশের একটি বিশাল চুন্দুল গাছের বড় একটি ডাল ভেঙে রান্নাঘরের ওপর আছড়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডালটির বেড় ছিল প্রায় ১০–১২ ফুট। এটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরের টিনের চাল ও কাঠামো দুমড়েমুচড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে রান্নাঘরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত মনির আহমেদ বলেন, তাঁর স্ত্রী রান্নাঘর থেকে বের হওয়ার পরপরই গাছের ডালটি সেখানে পড়ে। আল্লাহর রহমতে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তাঁরা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। বসতঘরের পাশে আরও তিনটি বড় চুন্দুল গাছ রয়েছে। এসব গাছের বিভিন্ন অংশ পচে গেছে এবং সেগুলোও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শুধু মনির আহমেদের পরিবার নয়, ওই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোর আশপাশে অন্তত আটটি পরিবার বসবাস করছে। গাছগুলোর বড় বড় ডাল পচে যাওয়ায় সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই সেগুলো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের অভিযোগ, গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একটি দুর্ঘটনা ঘটার পরও যদি ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণ করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি ও বড় ধরনের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। স্থানীয়রা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।
কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, কারও বসতঘরের ওপর গাছ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ গাছ ও পচে যাওয়া ডালপালা দ্রুত অপসারণ করা না হলে পরবর্তী ঝড়-বৃষ্টিতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।