কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ‘১২ বাম’ এলাকায় জেলেদের ওপর জলদস্যুদের ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক দিনে অন্তত ১৫টি ফিশিং ট্রলারে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও মাঝিমাল্লাদের মারধর করেছে সশস্ত্র দস্যুরা। এতে অন্তত ২০ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত আটজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাতে মহেশখালী থেকে আহতদের চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাহমুদুল হক মাঝি (৩৯), লকিয়ত উল্লাহ (৩৩), আব্দুল মান্নান (৩৪), আব্দুল মজিদ (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. হাসান (২৬), সামুন (২৫) ও কামাল হোসেন মাঝি (৩৯)। অন্য আহতদের মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুল হক মাঝি জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় ছোট ছোট বোটে করে একদল সশস্ত্র জলদস্যু তাদের ট্রলারে হামলা চালায়। দস্যুরা ট্রলারে উঠে লুটপাটের পাশাপাশি মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে মারধর করে। তার অভিযোগ, সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না হলে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, ‘১২ বাম’ এলাকায় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল একের পর এক ফিশিং ট্রলারে হামলা চালাচ্ছে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতিটি ট্রলার থেকে মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, খাদ্যসামগ্রী, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে তারা।
আক্রান্ত ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটের নয়টি ট্রলার রয়েছে। আহত মাঝিমাল্লারা ঘাটে ফিরে এলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বোট মালিকরা। নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এদিকে জলদস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধে কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জলদস্যু ও ডাকাতদের দমনে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। শিগগিরই সাগরে দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
শু