ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর প্রথম রাতেই পটুয়াখালীর দশমিনায় তিনজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি হাতটানা ‘মইয়া জাল’ জব্দ করা হয়। বুধবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার চরহাদী এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দণ্ড দেন। জব্দ করা জালগুলো পরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত আ. রহিম হাওলাদারের ছেলে হাবিব হাওলাদার (৫৫), মৃত কাঞ্চন আলীর ছেলে মাহাবুব (৫২) এবং মৃত আহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে খাকন হাওলাদার (৪৫)।
তবে দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন ইলিশ শিকার করছিলেন না বলে জানা গেছে। তারা হাতটানা মইয়া জাল নিয়ে ট্রলারে করে তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে চরহাদী এলাকায় নদীর পাড়ে চিংড়ি মাছ ধরতে যাচ্ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরা, মাছ বহন ও পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় এবং মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মাছ ধরার সরঞ্জামসহ নদীতে অবস্থান করায় তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উপজেলার নদ-নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে মাছ ধরার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।