পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলটির দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক। অপর গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও খাম প্রতীক।
আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের আগে শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত জানায় নির্বাচন কমিশন। মূল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক আপাতত হিমায়িত রাখার এক দিন পর নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হলো।
নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূল দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-দাওয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। উপনির্বাচনে দুই পক্ষকে নতুন পরিচয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে দুই গোষ্ঠীকে নতুন দলের নাম ও মুক্ত প্রতীকের জন্য তিনটি করে পছন্দ কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ এবং ‘তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’—এই তিনটি নাম প্রস্তাব করেছিল। প্রতীকের ক্ষেত্রে ফুটবল খেলোয়াড় ও ক্রিকেট ব্যাটসহ বিকল্প চাওয়া হয়েছিল।
অপর গোষ্ঠী ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’ নামের প্রস্তাব দেয়। তাদের পছন্দের প্রতীকের মধ্যে ছিল খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ড। শেষ পর্যন্ত কমিশন মমতা গোষ্ঠীকে ফুটবল খেলোয়াড় এবং অপর গোষ্ঠীকে খাম প্রতীক বরাদ্দ করে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রেক্ষাপটে। দুই পক্ষই মূল দলের নাম ও প্রতীকের ওপর নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছিল। কমিশন বলেছে, বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উপনির্বাচনে পৃথক নাম ও প্রতীক ব্যবহার করানোই বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজন।
কমিশনের আগের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, দুই পক্ষের দেওয়া নথি ও দাবিতে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের প্রকৃত দল হিসেবে দাবি করায় উপনির্বাচনের আগে মূল নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তৃণমূলের এই বিভাজন নিয়ে দলটির নেতাদের মধ্যেও ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মমতা-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের মূল নাম ও প্রতীক স্থগিতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের যাত্রা শুরু হয়। দলটির ঐতিহ্যবাহী প্রতীক জোড়াফুল। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর টানা তিন মেয়াদে রাজ্য সরকার পরিচালনা করে দলটি।
এখন ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং অপর গোষ্ঠী ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মূল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে আসবে।