কোহাতে পুলিশ সদরদপ্তরের মসজিদের গেটে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ির ধাক্কা; আহত অন্তত ৫০, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর**
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাত জেলায় একটি মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক ব্যক্তি এবং পাঁচজন পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে পেশোয়ার পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি ও আলজাজিরা।
কোহাত জেলার পুলিশ সদরদপ্তরের মসজিদের গেটে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে হামলাকারীরা ধাক্কা দেয়। এরপর গাড়িটিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই সময় জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের গোলাগুলি শুরু হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ চলছিল। এ সময় পুলিশের গুলিতে একজন হামলাকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে হামলার পর বিপুলসংখ্যক হতাহতকে নেওয়া হয়। বার্তাসংস্থা ডিপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি হাসপাতালে ১৫টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৫০ জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক তাহির শাহ জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। হামলাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা এবং হামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি তৎপরতার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। সেখানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সক্রিয় রয়েছে। সংগঠনটি অতীতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মসজিদেও তাদের হামলার নজির রয়েছে।
তবে শুক্রবারের হামলার সঙ্গে টিটিপির সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার ধরন, হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য তদন্ত করে দেখছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে। আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
শুক্রবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য থাকার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। পুলিশ সদরদপ্তরের মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়ে থাকলে এটি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
হামলার পর স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।