চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ওয়াশিংটনের বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে নিজে গিয়ে স্বাগত জানিয়ে কূটনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শি ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান বিমানবন্দরে পৌঁছালে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের এ ধরনের বিমানবন্দর অভ্যর্থনা বিরল; রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১১ বছর আগে বারাক ওবামা পোপ ফ্রান্সিসকে একই ঘাঁটিতে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
কিন্তু এই অভ্যর্থনার গুরুত্ব শুধু প্রটোকলে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দুই নেতা এমন এক সময়ে মুখোমুখি হচ্ছেন, যখন কয়েক বছর ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধ সাময়িক বিরতিতে রয়েছে, অথচ বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, তাইওয়ান ও ইরানসহ একাধিক বিষয়ে প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্য বহাল। ফলে ওয়াশিংটনে শির তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকে শুধু সৌজন্য সফর হিসেবে দেখলে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা ধরা পড়বে না।
শির এই সফর এক দশকেরও বেশি সময় পর ওয়াশিংটনে তাঁর প্রথম সফর। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার পর দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা। হোয়াইট হাউসের কর্মসূচি অনুযায়ী, অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর ৪৭৯ সদস্য অংশ নেওয়ার কথা এবং সামরিক প্রদর্শনীর পর রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন রয়েছে। শুক্রবার সফরের সমাপ্তি হবে ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে।
দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন বাণিজ্য। গত বছর শুল্ক নিয়ে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও বেইজিং সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমাতে একটি বাণিজ্যবিরতিতে যায়। এখন সেই বিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। অর্থাৎ শি ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর আগেই বাণিজ্য আলোচনার জন্য একটি নতুন সময়সীমা তৈরি হয়েছে।
এই বিরতি অবশ্য বাণিজ্যযুদ্ধের স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এটি দুই পক্ষকে উচ্চ শুল্ক ও পাল্টা পদক্ষেপ এড়িয়ে আলোচনার সুযোগ দিচ্ছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিল, আর চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান আগ্রহগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে বেইজিং বাণিজ্যবিরতি দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ও প্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কমানোর বিষয়ে অগ্রগতি চাইতে পারে।
এখানে দুই পক্ষের দরকষাকষির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ওয়াশিংটন চাইছে চীনের বাজার ও সরবরাহব্যবস্থা থেকে আরও সুবিধা আদায় করতে; বেইজিং চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে একই সঙ্গে নিজস্ব প্রযুক্তিগত ও শিল্প সক্ষমতা বাড়াতে। ফলে বাণিজ্যবিরতি যতটা সমঝোতার লক্ষণ, ততটাই ভবিষ্যৎ দরকষাকষির সময় কেনার কৌশল। এই আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ বা বিরল খনিজ। আধুনিক ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, উচ্চপ্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব খনিজের প্রয়োজন হয়। চীন বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকায় এসব খনিজকে ঘিরে বেইজিংয়ের নীতির ওপর ওয়াশিংটনের বিশেষ নজর রয়েছে।
গত বছরের বাণিজ্যসংঘাতের সময় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা দুই দেশের সম্পর্কের একটি কৌশলগত মাত্রা স্পষ্ট করে—বাণিজ্য এখন শুধু পণ্য কেনাবেচার বিষয় নয়; প্রযুক্তি, শিল্পনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও তা যুক্ত।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের অভিযোগ—চীন গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার বিষয়ে আগের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। অন্যদিকে বেইজিং এসব সম্পদের ওপর নিজের নীতিগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আগ্রহী। ফলে শি-ট্রাম্প বৈঠকে খনিজ সরবরাহের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির জায়গা হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু শুল্ক ও পণ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই হয়ে উঠেছে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র। দুই দেশই এআইকে অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটন চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সীমিত করতে উন্নত চিপ ও প্রযুক্তির ওপর নানা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বেইজিং অন্যদিকে নিজস্ব প্রযুক্তি ও চিপ সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই প্রতিযোগিতার মধ্যেও এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশ এআই নিরাপত্তা নিয়ে একটি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেছে।
তবে এখানেও সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা পাশাপাশি চলছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে উন্নত প্রযুক্তিতে নিজের নেতৃত্ব ধরে রাখতে। চীন চাইছে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে মার্কিন বিধিনিষেধ যেন বড় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। ফলে এআই নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতা হলে সেটি পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার চেয়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ বজায় রাখার কাঠামো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে সমঝোতার সুযোগ থাকলেও তাইওয়ান প্রশ্নে দুই দেশের মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে এবং অস্ত্র সরবরাহও করেছে। এই কারণে তাইওয়ানকে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্লেষণেও তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সম্ভাব্য বড় সংঘাতের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বর্তমান বৈঠকে তাইওয়ান নিয়ে কোনো বড় ঘোষণা আসে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। চীন চাইছে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে তাইওয়ানের বিষয়ে স্পষ্টতর অবস্থান; যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো চীনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে তাইওয়ানের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখা। এই জায়গায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনীতিও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প একদিকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা চান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত স্বার্থও ধরে রাখতে চান। ফলে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত অন্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
শি-ট্রাম্প বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মধ্যপ্রাচ্য। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের বাইরের একটি সংকট হলেও এর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব দুই দেশের ওপরই পড়ছে। চীন ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং ইরানি তেলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে। ফলে ওয়াশিংটন চীনের কাছে তেহরানকে নিয়ে অবস্থান জানতে বা কোনো ধরনের কূটনৈতিক ভূমিকা প্রত্যাশা করতে পারে।
চীনের জন্য বিষয়টি আরও জটিল। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলে, যা চীনের অর্থনীতির জন্য সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইরান প্রশ্নে বেইজিংয়ের লক্ষ্য কেবল তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা নয়; আঞ্চলিক সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত না হয়, সেটিও তার স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত।
শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ঘটনা নয়। তবে এর অর্থ কী—এ নিয়ে একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। শি নিজেও ওয়াশিংটনে পৌঁছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হিসেবে সম্পর্ক গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
অন্যদিকে এই সৌজন্যের পাশাপাশি বাস্তব আলোচনার জায়গাগুলোতে দুই পক্ষের স্বার্থের সংঘাত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে নিজের সুবিধা নিশ্চিত করতে; চীন চায় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ কমাতে। যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন; চীন এসব ক্ষেত্রে নিজের কৌশলগত সক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। তাইওয়ান ও ইরান প্রশ্নে নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির পার্থক্যও রয়ে গেছে।
এই বাস্তবতায় দুই নেতার নিয়মিত বৈঠক নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ট্রাম্প ও শির আরও বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। অর্থাৎ দুই দেশের প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার চেয়ে তা পরিচালনার জন্য সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্ভবত কোনো একটি চুক্তি নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিজেদের সম্পর্ককে কোন কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যেতে চায়, সেটিই বড় প্রশ্ন।
গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে প্রতিযোগিতা করলেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তাদের কারও জন্য সহজ নয়। চীনের বিশাল বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও আর্থিক শক্তি—দুই দেশের অর্থনীতি পরস্পরের সঙ্গে বহু স্তরে যুক্ত। ফলে সামনে তিনটি প্রবণতা একসঙ্গে চলতে পারে—বাণিজ্যে সীমিত সমঝোতা, প্রযুক্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা। এআই, বিরল খনিজ ও সরবরাহশৃঙ্খল এই নতুন প্রতিযোগিতার অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করছে; তাইওয়ান ও ইরান তার ভূরাজনৈতিক মাত্রা বাড়াচ্ছে।
শিকে ট্রাম্পের বিরল অভ্যর্থনা এই সম্পর্কের সৌজন্যমূলক দিকটি সামনে এনেছে। কিন্তু বিমানবন্দরের লালগালিচার বাইরে আসল দরকষাকষি হবে শুল্ক, প্রযুক্তি, খনিজ, বাজার, তাইওয়ান ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে। দুই নেতা যদি এসব ইস্যুতে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে পারেন, তাহলে তা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। আর যদি কোনো একটি ইস্যুতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়, তাহলে সাময়িক বাণিজ্যবিরতির আড়ালে থাকা প্রতিযোগিতা আবারও প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
তাই শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের তাৎপর্য কোনো একক ঘোষণায় নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আগামী দিনে **প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কীভাবে একই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় পাশাপাশি থাকবে**, তার একটি সম্ভাব্য কাঠামো এই সফর থেকে কতটা স্পষ্ট হয়—সেটিই এখন দেখার বিষয়।