জানুয়ারিতে ঈদুল আজহা, অক্টোবরে ঈদুল ফিতর, ডিসেম্বরে আবার কোরবানির ঈদ
একই ইংরেজি বছরে তিনটি ঈদ এবং দুটি হজ—শুনতে বিস্ময়কর হলেও এমন বিরল ঘটনা ঘটতে পারে ২০৩৯ সালে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও প্রচলিত হিজরি-গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার রূপান্তর অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের শুরুতে একবার এবং বছরের শেষ দিকে আবার হজের মৌসুম পড়বে। এর মাঝখানে পালিত হবে ঈদুল ফিতর। ফলে একটি গ্রেগরিয়ান বছরে দুটি ঈদুল আজহা ও একটি ঈদুল ফিতর—মোট তিনটি ঈদ পড়বে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই ১৪৬০ হিজরি সালের জিলহজ মাসের শেষভাগ থাকবে। সম্ভাব্য হিসাবে ৯ জিলহজ, অর্থাৎ আরাফার দিন পড়বে ৪ জানুয়ারি এবং ১০ জিলহজ, ঈদুল আজহা পড়বে ৫ জানুয়ারি। এরপর হিজরি ১৪৬১ সালের রমজান শুরু হওয়ার কথা ১৯ সেপ্টেম্বর। সেই হিসাবে ১ শাওয়াল বা ঈদুল ফিতর পড়বে ১৯ অক্টোবর। অর্থাৎ বছরের শুরুতে একটি কোরবানির ঈদের পর প্রায় ১০ মাসের ব্যবধানে আসবে ঈদুল ফিতর।
এর মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি সময় পর আবার শুরু হবে জিলহজ। ১৪৬১ হিজরির ১ জিলহজ সম্ভাব্যভাবে ১৮ ডিসেম্বর পড়বে। ৯ জিলহজ বা আরাফার দিন হবে ২৫ ডিসেম্বর এবং ১০ জিলহজ, অর্থাৎ দ্বিতীয় ঈদুল আজহা পড়বে ২৬ ডিসেম্বর ২০৩৯। অর্থাৎ ২০৩৯ সালের সম্ভাব্য ধর্মীয় ক্যালেন্ডারটি হবে—জানুয়ারিতে ঈদুল আজহা, অক্টোবরে ঈদুল ফিতর এবং ডিসেম্বরে আবার ঈদুল আজহা। একই কারণে ওই গ্রেগরিয়ান বছরে দুই হিজরি বছরের জিলহজ মাসের হজের মূল আনুষ্ঠানিকতাও পড়বে।
কেন এমন হবে
এর পেছনে মূল কারণ হিজরি ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য। হিজরি বর্ষ পুরোপুরি চন্দ্রভিত্তিক এবং সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বছর ৩৬৫ দিন এবং অধিবর্ষে ৩৬৬ দিন। ফলে হিজরি বছর সৌর বছরের চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট।
এই পার্থক্যের কারণে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান, ঈদুল ফিতর, জিলহজ ও ঈদুল আজহা প্রতিবছর আগের বছরের তুলনায় কিছুটা আগে আসে। কয়েক দশকের ব্যবধানে একই ইসলামি মাসের দুটি পর্যায় একই গ্রেগরিয়ান বছরের ভেতরে চলে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
২০৩৯ সালে সেই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হবে জিলহজ মাসকে ঘিরে। ১৪৬০ হিজরির জিলহজের শেষ অংশ থাকবে ২০৩৯ সালের জানুয়ারিতে। আবার ১৪৬১ হিজরির জিলহজ শুরু হবে একই বছরের ডিসেম্বর মাসে। ফলে একই ইংরেজি বছরে দুই জিলহজ এবং তার সঙ্গে দুই হজের মৌসুম দেখা যাবে।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—হজের তারিখ ও ঈদের তারিখ চূড়ান্তভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন ক্যালেন্ডার ও গণনাপদ্ধতিতে এক দিন পর্যন্ত পার্থক্য হতে পারে। যেমন কিছু হিসাবের ক্ষেত্রে প্রথম ঈদুল আজহা ৬ জানুয়ারি বলা হয়েছে, আবার সৌদি আরবের উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডারভিত্তিক হিসাবে তা ৫ জানুয়ারি দেখানো হয়েছে। তাই ২০৩৯ সালের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
আগেও হয়েছিল
একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুটি রমজান পড়ার ঘটনাও চন্দ্র ও সৌর বছরের এই পার্থক্যের ফল। ২০৩০ সালে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে—বছরের শুরুতে এবং আবার বছরের শেষদিকে রমজান পড়বে। একই ধরনের ঘটনা এর আগে ১৯৯৭ সালেও ঘটেছিল।
তবে দুটি রমজান এবং একই বছরে দুটি হজের বিষয় এক নয়। ২০৩৯ সালের ঘটনাটি বিশেষভাবে ব্যতিক্রমী এ কারণে যে, একই গ্রেগরিয়ান বছরে জিলহজ দুইবার আসবে। আর জিলহজের ৯ তারিখে আরাফার ময়দানে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা এবং পরদিন ১০ জিলহজে পালিত হয় ঈদুল আজহা। ফলে ২০৩৯ সালের ক্যালেন্ডার ইসলামি ধর্মীয় ইতিহাস ও সময় গণনার দিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। গ্রেগরিয়ান বছরের সীমারেখা ধরে দেখলে একই বছরে দুইবার হজের মৌসুম এবং তিনটি ঈদ পড়বে—যার মধ্যে দুটি হবে ঈদুল আজহা এবং একটি ঈদুল ফিতর।