প্রথম দফায় লুলা-বলসোনারোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, রানঅফে ব্যবধান আরও কমার ইঙ্গিত
ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোও কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন। ভোটের আগের সর্বশেষ কয়েকটি জনমত জরিপে কোনো প্রার্থীই বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পাওয়ার কাছাকাছি না থাকায় নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রয়োজন হলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোট হবে।
রোববার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির কংগ্রেসের সদস্য, গভর্নর এবং বিভিন্ন প্রাদেশিক পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিও নির্বাচিত হচ্ছেন। ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট পদে কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেলে প্রথম দফাতেই জয়ী হন। কেউ এই সীমা অতিক্রম করতে না পারলে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ভোটের আগের দিন প্রকাশিত সিএনটি/এমডিএ জরিপে বৈধ ভোটের হিসাবে লুলার সমর্থন ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর ৪২ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদের মধ্যে অগাস্টো কিউরি ৩ দশমিক ৬, রোনালদো কাইয়াডো ৩ দশমিক ৪, রেনান সান্তোস ১ দশমিক ৭ এবং রোমিউ জেমা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ সমর্থন পেতে পারেন বলে জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে।
ডাটাফোলার জরিপেও লুলা এগিয়ে। সেখানে বৈধ ভোটে লুলার সমর্থন ৪৫ শতাংশ এবং বলসোনারোর ৪২ শতাংশ। রোনালদো কাইয়াডো ৪, রেনান সান্তোস ও অগাস্টো কিউরি ৩ শতাংশ করে এবং রোমিউ জেমা ১ শতাংশ সমর্থন পেতে পারেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। জরিপটির ত্রুটির সীমা ২ শতাংশ পয়েন্ট।
কোয়েস্টের সর্বশেষ জরিপে অবশ্য দুই প্রধান প্রার্থীর ব্যবধান আরও কম। সেখানে লুলার সমর্থন ৪৬ শতাংশ এবং বলসোনারোর ৪৫ শতাংশ। অগাস্টো কিউরি, রেনান সান্তোস ও রোনালদো কাইয়াডো প্রত্যেকে ৩ শতাংশ করে সমর্থন পেতে পারেন।
আটলাসইনটেল-ব্লুমবার্গের জরিপেও লুলা এগিয়ে রয়েছেন। সেখানে লুলার সমর্থন ৪৭ শতাংশ এবং বলসোনারোর ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ। রেনান সান্তোস ৪ দশমিক ৬, অগাস্টো কিউরি ২ দশমিক ১ এবং রোনালদো কাইয়াডো ১ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন পেতে পারেন।
সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটে লুলা এগিয়ে থাকলেও জরিপগুলোর ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে। ফলে এসব সংখ্যাকে নিশ্চিত ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভোটের প্রকৃত ফল নির্ধারিত হবে ভোট গণনার পর।
দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য ভোটের হিসাবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। সিএনটি/এমডিএর জরিপে লুলা ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বলসোনারো ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। ডাটাফোলায় লুলা ৪৭ এবং বলসোনারো ৪৬ শতাংশে রয়েছেন। আটলাসইনটেল-ব্লুমবার্গের জরিপে লুলা ৪৭ দশমিক ৬ এবং বলসোনারো ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ—প্রায় সমান অবস্থানে। কোয়েস্টের জরিপে আবার বলসোনারো ৪৪ শতাংশ এবং লুলা ৪২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।
সিএনটি/এমডিএ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৭ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। জরিপটির ত্রুটির সীমা ২ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। ডাটাফোলা ২ থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ হাজার ৬ জনকে নিয়ে জরিপ করেছে, ত্রুটির সীমা ২ শতাংশ পয়েন্ট। কোয়েস্ট ২ থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০২ জনের ওপর জরিপ চালিয়েছে; ত্রুটির সীমাও ২ শতাংশ পয়েন্ট। আর আটলাসইনটেল ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৪৫ জনের ওপর জরিপ চালিয়েছে; এর ত্রুটির সীমা ১ শতাংশ পয়েন্ট।
ব্রাজিলের এবারের নির্বাচনে লুলা চতুর্থবারের মতো, তবে টানা নয়, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ভোটের আগে দুজনই প্রচারের শেষ পর্যায়ে নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণেও লুলা ও ফ্লাভিওর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা উঠে এসেছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটাররা শুধু প্রেসিডেন্ট নয়, গভর্নর, সিনেটর, ফেডারেল ডেপুটি এবং প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যও নির্বাচিত করছেন। দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোট ৪ অক্টোবর এবং প্রেসিডেন্ট পদে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৫ অক্টোবর।
সর্বশেষ জরিপগুলোর চিত্রে তাই প্রথম দফায় লুলা এগিয়ে থাকলেও তাঁর সরাসরি জয়ের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত নেই। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফায় সম্ভাব্য লুলা-বলসোনারো লড়াইয়ে জরিপভেদে ব্যবধান কখনো লুলার পক্ষে, কখনো বলসোনারোর পক্ষে এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রায় সমান। ফলে প্রথম দফার ফলই নির্ধারণ করবে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোটে কারা মুখোমুখি হবেন।