প্রাদেশিক সরকার স্থগিত, হেফাজতে মুখ্যমন্ত্রীসহ নেতারা

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি শাসনের প্রথম দিনেই ২৭৮ পিটিআইকর্মী আটক

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০
 ছবি:

সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ কেন্দ্রের, সিদ্ধান্তকে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা বলছে পিটিআই

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি শাসন জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ সিদ্ধান্তের পর প্রথম দিনেই প্রদেশটিতে দলটির ২৭৮ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হেফাজতে নেওয়া হয়েছে প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি, পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সভাপতি জুনায়েদ আকবর খান এবং প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার বাবর সেলিম সোয়াতিসহ কয়েকজন নেতাকে। একই সঙ্গে পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের পরিকল্পনাও বাধার মুখে পড়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ পদক্ষেপের সুপারিশ করে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দুই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জরুরি শাসন ঘোষণার পর থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন এলাকায় ২৭৮ পিটিআইকর্মীকে আটক করা হয়েছে। গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি না থাকায় তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য, আফগানিস্তান-সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে জঙ্গি তৎপরতা ও হামলা বাড়লেও পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে যথেষ্ট সহযোগিতা করেনি। তবে পিটিআই এ অভিযোগ অস্বীকার করে জরুরি শাসনকে অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দলটির দাবি, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতার বাইরে সরিয়ে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।

জরুরি শাসনে কী বদল হলো

পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানান, নতুন ব্যবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী, প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টাদের হাতে থাকা নির্বাহী ক্ষমতা গভর্নরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডির অধীনে ১১ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ প্রাদেশিক প্রশাসন পরিচালনা করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণায় ব্যবস্থাটি ছয় মাস পর্যন্ত কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রদেশের ১২টি জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গভর্নর ও মুখ্য সচিবের অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠন করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার কার্যকর থাকবে না। তবে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন একই সাংবিধানিক ব্যবস্থা নয়। সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদে জরুরি অবস্থার বিধান রয়েছে; ২৩৪ অনুচ্ছেদে প্রদেশে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়লে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের বিষয়টি বলা হয়েছে। এ দুই বিধানের প্রয়োগ ও পরিধি নিয়ে আইনি বিতর্কের সুযোগ রয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গভর্নরের শাসন প্রাথমিকভাবে দুই মাসের জন্য জারি করা যায়; সংসদের যৌথ অধিবেশনে অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট শর্তে তা বাড়ানো সম্ভব, সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত। জরুরি অবস্থা বহাল রাখার ক্ষেত্রেও সংবিধানে সংসদীয় অনুমোদনসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার পাশাপাশি সংসদীয় প্রক্রিয়া ও আদালতে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জও পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্রীসহ একাধিক নেতা হেফাজতে

জরুরি শাসন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পিটিআই জানায়, মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে আটক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এক কর্মকর্তাও রয়টার্সকে জানান, তাঁকে ও তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাদেশিক সভাপতি জুনায়েদ আকবর খান এবং পরিষদের স্পিকার বাবর সেলিম সোয়াতিরও হেফাজতে থাকার খবর দিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম।

তবে তাঁদের সবার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বরাতে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোহেল আফ্রিদিকে প্রথমে তাঁর সরকারি বাসভবনে হেফাজতে রাখা হয়, পরে অন্য স্থানে নেওয়া হয়। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পেশোয়ারে ঢাল, লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল হাতে পুলিশের সদস্যরা । ছবি: এএফপি

পেশোয়ারে ঢাল, লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল হাতে পুলিশের সদস্যরা । ছবি: এএফপি

পিটিআইয়ের আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডনের প্রতিবেদনে বাজাউর ও মোহমান্দ জেলায় জরুরি শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় পিটিআই নেতারা মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য নেতাদের আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে আটক ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি।

পেশোয়ারে কড়া নিরাপত্তা, বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

জরুরি শাসন জারির পর প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রশাসনিক এলাকার প্রবেশপথে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শহরের ঐতিহাসিক হাশতনগরি তোরণের কাছে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। প্রশাসনিক এলাকায় যান চলাচল সীমিত করতে পণ্যবাহী কনটেইনার ও অস্থায়ী প্রতিবন্ধক ব্যবহার করা হয়েছে। তল্লাশিচৌকিতে পুলিশ সদস্যদের হাতে ঢাল, লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছিল বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার প্রদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। কিছু এলাকায় বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা অভিযানের কারণে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটে। সোয়াবি এলাকায় পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ অভিমুখী মিছিল বাধার মুখে পড়ে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ৫৯ জন পিটিআইকর্মীকে আটক করা হয়; খাইবার জেলায় আটক হন আরও ছয়জন। কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার খবরও পাওয়া গেছে। তবে এসব ব্যবস্থা কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ কার্যকর ছিল, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

জরুরি শাসন জারির পর পিটিআইয়ের বিক্ষোভ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বাজাউর ও মোহমান্দে দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তবে আগের কয়েক দিনের কর্মসূচি এবং ইসলামাবাদ অভিমুখী মিছিলের তুলনায় সোমবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ কম ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ছে—এমন ধারণা তৈরি হলেও, এক দিনের কর্মসূচির ভিত্তিতে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ কেন্দ্রের

জরুরি শাসনের পক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান যুক্তি নিরাপত্তা পরিস্থিতি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অভিযোগ করেছেন, পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক প্রশাসন সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম থেকে কার্যত সরে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর দাবি, প্রাদেশিক নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা মোকাবিলাকে কঠিন করে তুলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) তৎপরতা এবং আফগানিস্তান-সংলগ্ন এলাকায় সহিংসতা বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেছেন।

তবে এসব অভিযোগের জবাবে পিটিআই বলেছে, প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য শুধু প্রাদেশিক সরকারকে দায়ী করা যায় না। দলটির নেতাদের দাবি, সন্ত্রাস দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে জঙ্গি গোষ্ঠীকে সহায়তা করার যে অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকার তুলেছে, তা দলটি অস্বীকার করেছে। এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

জরুরি শাসনের মধ্যে পেশোয়ারের খালি সড়ক। ছবি: এএফপি

জরুরি শাসনের মধ্যে পেশোয়ারের খালি সড়ক। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের রাজনীতিতে নিরাপত্তা ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে বিরোধের কারণ। খাইবার পাখতুনখাওয়া আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী হওয়ায় সেখানে জঙ্গি হামলা, নিরাপত্তা অভিযান এবং বাস্তুচ্যুতির মতো সমস্যা রয়েছে। তবে নিরাপত্তা সংকটের মোকাবিলায় নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারের ভূমিকা কতটা ব্যর্থ হয়েছে, আর কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ কতটা প্রয়োজনীয়—এ প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত।

আদালতে চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি

জরুরি শাসন জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই। দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান বলেছেন, এই পদক্ষেপ প্রদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী। তাঁর মতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি করতে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার বদলে রাজনৈতিক সমন্বয় ও কার্যকর সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ প্রয়োজন।

পেশোয়ার হাইকোর্টে জরুরি শাসনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি আবেদন করা হয়েছে বলেও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আবেদনে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রাদেশিক গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডিকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারী সিদ্ধান্তটিকে অসাংবিধানিক ও বেআইনি দাবি করে তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। তবে আদালত আবেদনটির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত আদেশ দিয়েছে কি না, তা প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের পৃথক শর্ত এবং জরুরি অবস্থার অনুমোদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া এই আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে থাকবে। গভর্নরের শাসনের অধীনে প্রাদেশিক পরিষদের ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ হবে এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা কোথায়—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিকে ঘিরে সংকট

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি, সহিংসতায় উসকানি ও অন্যান্য অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনি ও তাঁর আইনজীবীরা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছেন; তাঁদের দাবি, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পিটিআইয়ের সমর্থকেরা তাঁর মুক্তির পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়ে আসছেন।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইমরান খানের মুক্তির দাবির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে। দলটির নেতারা ইসলামাবাদ অভিমুখে বড় মিছিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু জরুরি শাসন জারি, নেতাকর্মীদের আটক এবং সড়কে নিরাপত্তা প্রতিবন্ধক স্থাপনের পর সেই কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়। কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন; পিটিআই বলছে, এভাবে রাজনৈতিক বিরোধ দমন করলে সংকট আরও গভীর হবে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি শাসন তাই শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ নয়; এটি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও ইমরান খানের দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। একদিকে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে ব্যর্থতার অভিযোগ, অন্যদিকে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা স্থগিত করার সাংবিধানিক প্রশ্ন—দুই দিক থেকেই সিদ্ধান্তটির প্রভাব পড়তে পারে।

আটক নেতাকর্মীদের বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ, জরুরি শাসনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতের অবস্থান এবং পিটিআইয়ের নতুন কর্মসূচি এখন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। একই সঙ্গে প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার—দুই প্রশ্নেরই সমাধান পাকিস্তানের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

১

ইসরায়েলের নির্দেশনায় বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের ক্রু বাদ দিচ্ছে এয়ার ফ্রান্স

২

শেষ দিনে বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট, আফগানিস্তানের ৩৪৭ রান

৩

লিটনের সেঞ্চুরি, ৪৭৮ রানের লিডে ইনিংস ঘোষণা বাংলাদেশের

৪

সাব্বিরকে নিয়ে হংকং সিক্সেসের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

৫

সাদিক কায়েমের ছাত্রলীগের মিছিলে থাকার ছবি দেখালেন নুর

৬

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তে শতাধিক আবেদন

৭

টেকসই উদ্ভাবনে পোশাকশিল্পের ১২ উদ্যোগকে পুরস্কার দেবে বিজিএমইএ

৮

সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে এমপির বউ সবার আগে নেবে: হাসনাত

৯

প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ৪৬৯ শিক্ষার্থী, সর্বোচ্চ ৩২ জন ঢাবির

১০

হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে যুবকের দেহে জরায়ু, ডিম্বনালি

১১

জ্ঞানেশের পর মোদি-অমিতের পালা, থামানো যাবে না: রাহুল

১২

কক্সবাজার সৈকতে পাঁচ টন প্লাস্টিকের ‘দানব’

১৩

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত

১৪

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে বড় স্বপ্ন নিয়ে কুয়েতের পথে ফর্টিস

১৫

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি শাসনের প্রথম দিনেই ২৭৮ পিটিআইকর্মী আটক

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত