- ২০২৭–৩১ এফটিপি নিয়ে দুবাইয়ে আলোচনা; ফিরতে পারে ত্রিদেশীয়-চারজাতি সিরিজ, বাড়তে পারে ডব্লিউটিসির দল
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরবর্তী চার বছরের সূচি নতুন করে সাজাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বৈঠকে বসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া ক্রিকেট অপারেশন্স ওয়ার্কশপে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পরবর্তী ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
নতুন এফটিপি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান ব্যস্ত সূচি, খেলোয়াড়দের কাজের চাপ এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজের সংখ্যা কমিয়ে টি-টোয়েন্টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটের আকর্ষণ ধরে রাখতে ১৯৯০-এর দশকের আদলে ত্রিদেশীয় কিংবা চারজাতি সিরিজ আয়োজনের ভাবনাও রয়েছে। তবে এগুলো এখনো আলোচনার পর্যায়ে।
বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে টি-টোয়েন্টিকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছে আইসিসি। বিশেষ করে নতুন ও উদীয়মান ক্রিকেট বাজারে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ম্যাচ আয়োজন তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এ ফরম্যাটের মাধ্যমে দর্শক ও নতুন দেশকে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ বেশি।
তবে ওয়ানডে ক্রিকেটকে পুরোপুরি পেছনে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। বরং দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সংখ্যা কমিয়ে বহু-দলীয় সিরিজ বাড়ানোর মাধ্যমে ফরম্যাটটিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার চিন্তা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো শীর্ষ দলগুলোর কিছু দ্বিপক্ষীয় সিরিজের কাঠামো এরই মধ্যে অনেকটা নির্ধারিত হয়েছে। প্রচলিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭, ২০২৯–৩০ এবং ২০৩১ সালে অ্যাশেজ আয়োজনের কথা রয়েছে। ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট সিরিজও পরবর্তী চক্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ধরে রাখবে।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকও নতুন এফটিপি তৈরিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ১৯০০ সালের পর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। ২০২৮ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিকে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে একই সময়ে আন্তর্জাতিক টেস্ট সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।
বিশেষ করে ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে ওই সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ আয়োজনের সম্ভাব্য সূচি থাকায় অলিম্পিকের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক টেস্ট সূচির সংঘাত এড়ানো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
### বাড়তে পারে ডব্লিউটিসির দল
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) দলসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে নয়টি দল নিয়ে ডব্লিউটিসির চতুর্থ চক্র চলছে। আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়েকে ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতায় যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে।
জিম্বাবুয়ে ডব্লিউটিসিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। দলসংখ্যা বাড়ানো হলে টেস্ট ক্রিকেটের বিস্তৃতি যেমন বাড়তে পারে, তেমনি প্রতিযোগিতার কাঠামো ও সূচিও নতুন করে সাজাতে হবে।
আগের এফটিপি চক্রেও আইসিসি তিন ফরম্যাটের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং খেলোয়াড়দের কাজের চাপ বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। ২০২৩–২৭ চক্রে ১২টি পূর্ণ সদস্য দেশ মোট ৭৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছে—এর মধ্যে ১৭৩টি টেস্ট, ২৮১টি ওয়ানডে ও ৩২৩টি টি-টোয়েন্টি।
নতুন চক্রে এই ভারসাম্য আরও পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং বিভিন্ন দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বিস্তারের কারণে আন্তর্জাতিক সূচিতেও এর প্রভাব পড়ছে।
এ ছাড়া ডিআরএস প্রযুক্তির বাজারে একক সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমাতে অনুমোদিত প্রযুক্তি সরবরাহকারীর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। প্রযুক্তি ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশের জন্য ব্যয় ও ব্যবহার সহজ করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে দুবাইয়ের এই ওয়ার্কশপকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আগামী চার বছরের কাঠামো নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর কোনটি শেষ পর্যন্ত নীতিগত সিদ্ধান্তে রূপ নেয়, তা স্পষ্ট হবে এফটিপি চূড়ান্ত হওয়ার পর।