সড়ক সংস্কার, সড়ক বিভাজকে রং, বৃক্ষরোপণ ও স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। নিরাপত্তায় বিজিবির চারটি টহল দল
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফর ঘিরে নতুন সাজে সেজে উঠছে নগরী। আগামী ২০ অক্টোবর নগরীর ধর্মসভা এলাকার রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এ উপলক্ষে সড়ক সংস্কার, সড়ক বিভাজকে রঙের প্রলেপ, বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সফর নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
রোববার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ডিসির মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজে গতি বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কাজ দুই দিনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তৎপর রয়েছেন। নগরীর সড়ক বিভাজকগুলোতে লাল-সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডও টাঙানো হয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানিয়ে এসব ব্যানার-বিলবোর্ডে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দের বিষয়টি কোন প্রকল্প বা অর্থবছরের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নগরীর ধর্মসভা এলাকার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরেও প্রস্তুতি চলছে। মন্দির ও আশপাশের এলাকা সাজানো হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করছেন। সফরসূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মন্দিরটির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
স্থানীয় বাসিন্দা অনিন্দিতা কুন্ডু বলেন, ‘প্রথমবারের মতো দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী রংপুরে আসছেন আমাদের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। তাই আমরা খুবই আনন্দিত।’
বিজয় চন্দ্র বলেন, সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
এদিকে রাজশাহী অঞ্চলে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার রংপুরের একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদ্যাপন করছেন। দুর্গা মা সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তায় বিজিবির চারটি টহল দল
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে বিজিবির ৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বলেন, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরের ধর্মসভায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন। এ উপলক্ষে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে চারটি টহল দল নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সঙ্গে বিজিবির সমন্বয় হয়েছে। নিরাপত্তাবলয়ের আওতায় বিজিবির জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে সশস্ত্র সদস্য মোতায়েন থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া সৈয়দপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর আগমন থেকে প্রস্থান পর্যন্ত বিজিবির একটি টহল দল অবস্থান করে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী নগরীর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন রংপুরের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
রংপুর মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে দলীয় নেতাকর্মীসহ রংপুরবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নগরীতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সড়ক ও স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।