সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্তর নামে উপজেলা ভূমি অফিসের ফেসবুক পেজে দেওয়া দুটি পোস্ট ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবেন’; অন্যটিতে ছিল, ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’। পরে পোস্ট দুটি মুছে ফেলা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক দাবি করেন, এসিল্যান্ডের আইডি হ্যাক হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার দিবাগত রাতে ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট দুটি প্রকাশিত হয়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ইউএনও তাঁর নিজস্ব দাপ্তরিক পেজ থেকে পোস্ট দিয়ে জানান, এসিল্যান্ডের আইডি হ্যাক হয়েছে এবং এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেন। পরে এসিল্যান্ডের পেজ থেকে আগের পোস্ট দুটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
পোস্ট মুছে ফেলা এবং এসিল্যান্ডের পক্ষ থেকে সরাসরি বক্তব্য না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে পোস্টের সত্যতা, কীভাবে সেগুলো প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে কেন সরানো হয়—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল পাওয়া যায়নি।
ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক জানান, শুক্রবার তাঁর মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন আরিফুর রহমান শান্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শেষে এসিল্যান্ডের আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তিনি বাড়িতে থাকা আনসার সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং শিশুদেরও মারধর করেন বলে দাবি করেন ইউএনও। শিল্পী রাণী মোদক আরও বলেন, পরে এসিল্যান্ডের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে কিছু তথ্য পান। এরপর তাঁর বাসায় গিয়ে ভাঙা কাচসহ অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখতে পান বলে জানান তিনি। পরে পুলিশ ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার সহায়তায় এসিল্যান্ডকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
ইউএনওর ভাষ্য, ঘটনার পর তিনি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এসিল্যান্ডের বাসায় যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। শনিবার সকালে তাঁকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নেওয়া হয়; পরে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ বা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—কোন প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী চিকিৎসা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন। প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ইউএনও বলেন, চিকিৎসা শেষে আরিফুর রহমান শান্ত সুস্থ হয়ে ফিরলে ফেসবুক পোস্টের পেছনের কারণ সম্পর্কে জানা যেতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসিল্যান্ড সুস্থ হয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরবেন।
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল বা এসিল্যান্ডের নিজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই ফেসবুক পোস্টের সত্যতা, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এসিল্যান্ডের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়নি।