পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও সামরিক উত্তেজনার দিকে মোড় নিতে পারে— এমন ইঙ্গিত মিলছে ওয়াশিংটন থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পুনরায় বিমান হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। আর তেমনটি হলে আপাতত থেমে থাকা সংঘাত নতুন করে তীব্রভাবে শুরু হতে পারে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বিমান হামলা শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন এই পত্রিকাটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, ট্রাম্প কেবল বিমান হামলাই নয়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধসহ আরও বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়েও ভাবছেন। অবশ্য রোববার ইতোমধ্যেই এই অবরোধের ঘোষণা তিনি দিয়ে দিয়েছেন। ব্যাপক ক্ষতি সত্ত্বেও নত হয়নি ইরান, কী অপেক্ষা করছে ট্রাম্পের জন্য এ বিষয়ে বিবিসি হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, ‘সব অপশনই খোলা রয়েছে।’ হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে ইরানের চাঁদাবাজি বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে সব অতিরিক্ত বিকল্প খোলা রেখেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে কেউ যদি বলে যে তারা জানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরবর্তীতে কী করবেন, তাহলে তা সম্পূর্ণ অনুমানভিত্তিক।’ এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি কূটনৈতিক দল গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সমাপ্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা করলেও তা ব্যর্থ হয়। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হয়। হরমুজ পাড়ি দিয়েছে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল ইরান ১৪ ঘণ্টা আগে হরমুজ পাড়ি দিয়েছে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, ট্রাম্পের দাবি নাকচ করল ইরান রোববার সকালে ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া একাধিক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ আরোপ করবে। তিনি লেখেন, ‘যে কেউ অবৈধ টোল দেবে, তার জন্য উন্মুক্ত সমুদ্রে নিরাপদ পথ থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, মিত্রদেশগুলোর জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে এবং ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানের বিরুদ্ধে আবার হামলা চালাতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামাবাদে ২০ ঘণ্টার আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবি মানতে রাজি হয়নি, যেখানে তেহরানকে তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়: ট্রাম্প অবশ্য গত সপ্তাহের মতো তীব্র ভাষার হুমকি না থাকলেও, ট্রাম্পের এই বক্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।