ইরানের সামরিক শক্তির পুনর্গঠনের গতি দেখে হতবাক ইসরায়েল

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
২০২৫ সালে গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করছেন। ফাইল ছবি ছবি:
২০২৫ সালে গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করছেন। ফাইল ছবি ছবি:

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইরান যেভাবে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের দিকে এগোচ্ছে, তা দেখে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা হতবাক হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেল আবিবের সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমটির বরাত দিয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর ইরান দ্রুত তার সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন করতে সক্ষম হওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ বিস্মিত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জুনের শুরুতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সংঘাত আরও তীব্র হয় জুলাইয়ের শুরুতে। এ সময় অঞ্চলটির বিভিন্ন আরব দেশেও নতুন করে হামলা চালায় তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় দেশটি।

জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এখন স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন যে ইরান তার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য নতুন ও সৃজনশীল পদ্ধতি বের করেছে। প্রতিবেদনে দেয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে পৌঁছেছিল।

ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমটি যাচাই করেছে বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে নতুন অস্ত্র উৎপাদন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। মে মাসে সিএনএনকে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বাভাস দেয়া ‘সব সময়সীমা’ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, সে সময় গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছিল, ইরান ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যে তার ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে পারে।

এদিকে, মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান চীন থেকে ইরানে সরবরাহ অব্যাহত ছিল। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এই সরবরাহে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত চলাকালে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মার্কিন মজুত কমে আসছে।

সূত্রের বরাতে রয়টার্স চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় সব এটিএসিএমএস ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানবচালিত বোমারু বিমান অভিযানের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছে, ইরান কীভাবে তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তা তারা ‘ঘনিষ্ঠভাবে ও ধারাবাহিকভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের মূল্যায়ন নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। তবে আইডিএফ বলেছে, পুনর্গঠনের গতি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো মূল্যায়ন প্রকাশ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করলে তাদের গোয়েন্দা সূত্র ও পদ্ধতি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত