ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই দিনে ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সেনাপ্রধানের সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকের তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠকে দীনেশ ত্রিবেদী ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
তবে বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিংবা এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে একই দিন দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তুও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
একই দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের পৃথক বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করায় এ বৈঠক আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, উচ্চপর্যায়ের সামরিক সফর, প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক বজায় রয়েছে। নতুন বৈঠকে এসব সহযোগিতার কোন ক্ষেত্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে গত ১১ আগস্টও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে। এর মধ্যে হাইকমিশনারের একই দিনে ভারতের সরকার ও সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে পৃথক বৈঠক নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে বৈঠক দুটির আলোচ্যসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়ায় এর ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা নতুন সমঝোতার কথা বলা যাচ্ছে না। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রকাশিত তথ্যেও শুধু দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময়ের কথা বলা হয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পর্যায়ের যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ধারাবাহিক যোগাযোগকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক কাঠামোর অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে এসব বৈঠক থেকে বাস্তব কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন উদ্যোগ সামনে আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।