তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে পর্যটকবাহী বাস ও কাঠবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। রোববার (১১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে দেশটির মানিসা প্রদেশের আখিসার এলাকায় গেবজে-ওরহাঙ্গাজি-ইজমির মহাসড়কের টোল বুথের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আলজাজিরা ও তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাক—দুটি যানই সড়কের পাশে উল্টে যায়। বাসটির পেছনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে অংশ নেন জরুরি সেবাকর্মী, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা।
মানিসা গভর্নরের কার্যালয় জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১১ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী ও চিকিৎসাকর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে বাসচালকও রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁকে আটক করেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা নীল রঙের বডি ব্যাগ এবং উল্টে যাওয়া বাস ও ট্রাক দেখা গেছে। ট্রাকটি কাঠের তক্তা বহন করছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা চিফচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিহতদের নিজ দেশের নাগরিক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে হতাহতদের মধ্যে কোনো বিদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, তা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মানিসার গভর্নর ভাহদেত্তিন ওজকান জানান, সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তও শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসড়কের আখিসার টোল বুথ অতিক্রম করতে না পেরে বাসটি পেছনের দিকে চালানোর সময় পেছন থেকে আসা কাঠবোঝাই ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষ হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মানিসার গভর্নর দুর্ঘটনার পর সড়কে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ঘটনা ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা বেদনাদায়কভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।