আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ২০২৭ সালের নির্বাচন ঘিরে নতুন মেরুকরণ

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০
 ছবি:

ফ্রান্সে শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার সুযোগে বৈষম্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক, শ্রমিক ইউনিয়ন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেছে। আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে তরুণদের অসন্তোষ, শিক্ষানীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ প্যারিসের উপকণ্ঠে সাঁ-দেনির পল এলুয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে যোগ দেন। তিনি বলেন, তরুণদের আলোচনার বাইরে রাখা হচ্ছে এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। একই দিন ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিনের আন্দোলনে দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ অংশ নেন। আগের সপ্তাহের তুলনায় অংশগ্রহণ কমলেও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং ভবনগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। কোথাও শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ শিক্ষার উপযোগী নয়। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির পদ্ধতি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের মতে, এসব সমস্যা শুধু শিক্ষার মান কমাচ্ছে না, বরং আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও সংকুচিত করছে।

দ্য গার্ডিয়ানের ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলন ঘিরে ৬ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ পরিস্থিতি নিয়ে সংযম ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় পুলিশের আচরণ নিয়ে ২৪টি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। আহত হয়েছেন শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ের কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসংক্রান্ত দাবি ছাড়াও পুলিশের বলপ্রয়োগ, নাগরিক অধিকার এবং বিক্ষোভ দমনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে।

শিক্ষাসংকট থেকে রাজনৈতিক বিতর্ক

আন্দোলনের পেছনে রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফ্রান্সে শিক্ষা খাতে ব্যয় তুলনামূলক বেশি হলেও শিক্ষকসংকট, কর্মপরিবেশের অবনতি এবং সহায়ক কর্মীর ঘাটতি বিশেষ করে দরিদ্র এলাকাগুলোর বিদ্যালয়ে চাপ তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য কমানোর কার্যকর পরিকল্পনা।

সরকার সংকট মোকাবিলায় তিন হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের একাংশের মতে, বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান নয়। স্থায়ী নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে সংকট থেকেই যাবে।

আন্দোলনের বেশির ভাগ দাবিই শিক্ষাসংক্রান্ত হলেও কিছু স্থানে বিদ্যালয় অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের দাবি কতটা যৌক্তিক, আর বিক্ষোভের নামে সহিংসতার দায় কার—তা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরগুলো পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে।

মেলঁশোঁর সমর্থন, ল্য পেনের কঠোর অবস্থান

বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন। ১১ অক্টোবর ক্লেরমঁ-ফেরঁ শহরে এক সমাবেশে তিনি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রশংসা করেন এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রচলিত ব্যবস্থা পারকুরসুপ বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ আরও সমতাভিত্তিক হওয়া উচিত। ভোট দেওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করার প্রস্তাবও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ফরাসি সংবাদপত্র লা মঁদে জানিয়েছে, মেলঁশোঁর সমাবেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল। তবে তাঁর দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজ আন্দোলনকে সমর্থন করলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। মেলঁশোঁ ও তাঁর সমর্থকেরা অবশ্য আন্দোলনকারীদের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও দাবির ওপর জোর দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন ল্য পেন বিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় মেরামতের ব্যয় সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায়ের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে জনসম্পত্তি রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়েছে।

ল্য পেনের অবস্থানকে ঘিরে অবশ্য আরেকটি প্রশ্ন উঠছে—বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকসংকট, অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং শিক্ষাগত বৈষম্য দূর করতে কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। ফলে আন্দোলন নিয়ে বিতর্ক শুধু শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না; শিক্ষাব্যবস্থায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

মধ্যপন্থী রাজনীতিকদের জন্যও চ্যালেঞ্জ

২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে মধ্যপন্থী ও মধ্য-ডানপন্থী রাজনীতিকদেরও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আত্তাল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপের মতো নেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের জবাব দেওয়া এবং একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়, আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষানীতি নিয়ে নিজেদের কর্মসূচি তুলে ধরা।

ফ্রান্সের সরকার একদিকে বিদ্যালয়ের অবস্থা উন্নত করা ও শিক্ষকসংকট মোকাবিলার চাপে রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি ব্যয় ও বাজেট ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ফলে শিক্ষায় আরও অর্থ বরাদ্দের দাবি এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়লেও শিক্ষার্থীরা সবাই কোনো নির্দিষ্ট দলের সমর্থক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তাঁদের মধ্যে শিক্ষার মান, নিরাপদ পরিবেশ, সমান সুযোগ ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগই প্রধান। রাজনৈতিক দলগুলো এই দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও নির্বাচনে তা কতটা ভোটে রূপ নেবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

২০২৭ সালের নির্বাচনে তরুণদের ভূমিকা

ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৭ সালের বসন্তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবিধান অনুযায়ী, ইমানুয়েল মাখোঁ টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। ফলে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নির্বাচনী আলোচনায় অন্তত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে পারে। প্রথমত, শিক্ষাব্যবস্থা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো দলগুলো তরুণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। তৃতীয়ত, বিক্ষোভে সহিংসতা ও পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আইনশৃঙ্খলা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নকে নির্বাচনী আলোচনায় আরও সামনে আনতে পারে।

তবে বড় আন্দোলন মানেই নির্বাচনে বড় পরিবর্তন—এমন নিশ্চয়তা নেই। তরুণদের দাবির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির মিল, প্রার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোটদানে তাঁদের অংশগ্রহণ—সবকিছুই নির্বাচনী প্রভাব নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

ফ্রান্সের বর্তমান শিক্ষার্থী আন্দোলন তাই কেবল বিদ্যালয়ের অবকাঠামো বা শিক্ষকসংকটের প্রতিবাদ নয়। এটি শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য, রাষ্ট্রীয় সেবার মান, পুলিশের ভূমিকা এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ। ২০২৭ সালের নির্বাচনে এই আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষার্থীদের দাবির কতটা বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে এবং তরুণেরা সেই প্রতিশ্রুতিকে কতটা বিশ্বাস করেন তার ওপর।

১

সর্বকালের সেরা বিতর্কে মেসির ওপরে পেলেকে রাখলেন রোমারিও

২

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিন জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবি

৩

ড্রয়ে হতাশ শান্ত, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে চান

৪

পরাজয়ের কিনারায় অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের গল্প

৫

আইনি লড়াই কি পাখতুনখোয়ার ক্ষমতায় ফেরাবে পিটিআইকে

৬

বিক্ষোভে ভিন্ন আচরণ করে বিরোধীদের বিভক্ত করছে সরকার: সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা

৭

আফগানিস্তানে বিবিসির এফএম সম্প্রচার বন্ধ করল তালেবান

৮

মিষ্টির শূন্য আসনে ভোট দিতে পারবে না জামায়াত জোট

৯

সৌদির বিমানবন্দরে অচলাবস্থা, ঢাকার ৮২ ফ্লাইট ব্যাহত

১০

লালমনিরহাটে প্রশাসনের নির্দেশে প্রধান শিক্ষকের যোগদান ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১৩

১১

সাতক্ষীরায় সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা

১২

মাদরাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের অভিযোগে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

১৩

সরকারি স্কুলে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি

১৪

বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৫

এনসিপিতে ‘সুপার ইলেভেন’ থেকে ‘সুপার সিক্স’, শীর্ষ পদে আসছেন চার নেতা

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত