জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে একজোট বিরোধীরা, আন্দোলন চলবে: রাহুল

বিক্ষোভে ভিন্ন আচরণ করে বিরোধীদের বিভক্ত করছে সরকার: সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা

আজাদ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০
 ছবি:

ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে নরেন্দ্র মোদি সরকার—এমন অভিযোগ করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, ভিন্ন ভিন্ন বিক্ষোভের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করে আন্দোলনকারীদের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করতে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দীপকে বলেন, সিজেপিকে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই একটি অংশ প্রচার করছে, বিজেপিই তাঁদের সেখানে পাঠিয়েছে। অথচ আগের বিক্ষোভে পুলিশের যে পদক্ষেপ দেখা গেছে, পরবর্তী কর্মসূচিতে তেমন আচরণ করা হয়নি বলে তাঁর দাবি। তাঁর মতে, এ ধরনের ভিন্ন আচরণের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিজিৎ বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন বিক্ষোভের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করে তারা এমন মানুষদের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি করে, যারা শেষ পর্যন্ত একই উদ্দেশ্যে লড়াই করছে।’ তিনি আরও বলেন, কখনো একটি বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হতে পারে, আবার অন্য কর্মসূচি দমন করা হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই আচরণ উল্টেও যেতে পারে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করার বদলে আন্দোলনকারীরা যেন একে অপরকে সন্দেহ করতে থাকেন, সেটিই এ ধরনের কৌশলের উদ্দেশ্য।

সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা আন্দোলনকারীদের ষড়যন্ত্রতত্ত্বের ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে বিরোধী ঐক্য আরও জোরালো করার উদ্যোগ নিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। মঙ্গলবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে আয়োজিত চা-চক্রে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা, সাংসদ, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর নেতারা জানান, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তবে পরবর্তী পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তাঁরা।

বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সোনিয়া গান্ধী, শশী থারুর, তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত, যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী বলেন, এই লড়াই চলবে। তবে আন্দোলনের পরবর্তী পরিকল্পনা এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, ভারতের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান রক্ষার লক্ষ্যেই বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে কাজ করছে।

রাহুলের অভিযোগ, দেশে গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আঘাত এসেছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। তিনি ভারতের বিচারব্যবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্ব পালন করবে।

বিক্ষোভের স্থান নিয়েও বিরোধীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এর আগে পুলিশ মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং বিকল্প হিসেবে তিনটি স্থান নির্ধারণের কথা জানায়। এর প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী বলেন, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্ত তাঁরা চ্যালেঞ্জ করবেন। বিরোধীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

বিরোধী নেতারা বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তেজস্বী যাদব নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের জবাবদিহি দাবি করেন। সুপ্রিয়া সুলে বলেন, সংবিধান হুমকির মুখে বলেই বিভিন্ন দল একসঙ্গে হয়েছে। শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের নেতা সঞ্জয় রাউতও নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। অন্য নেতারাও জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সিজেপি ও বিরোধী জোটের আন্দোলনের পেছনে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো এই প্রক্রিয়ার জবাবদিহি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য ও বিরোধী নেতাদের অবস্থান থেকে স্পষ্ট, আন্দোলনের দাবির পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের ঐক্য ধরে রাখাও এখন তাদের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সরকার বিরোধীদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে—অভিজিতের এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

১

সর্বকালের সেরা বিতর্কে মেসির ওপরে পেলেকে রাখলেন রোমারিও

২

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিন জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবি

৩

ড্রয়ে হতাশ শান্ত, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে চান

৪

পরাজয়ের কিনারায় অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের গল্প

৫

আইনি লড়াই কি পাখতুনখোয়ার ক্ষমতায় ফেরাবে পিটিআইকে

৬

বিক্ষোভে ভিন্ন আচরণ করে বিরোধীদের বিভক্ত করছে সরকার: সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা

৭

আফগানিস্তানে বিবিসির এফএম সম্প্রচার বন্ধ করল তালেবান

৮

মিষ্টির শূন্য আসনে ভোট দিতে পারবে না জামায়াত জোট

৯

সৌদির বিমানবন্দরে অচলাবস্থা, ঢাকার ৮২ ফ্লাইট ব্যাহত

১০

লালমনিরহাটে প্রশাসনের নির্দেশে প্রধান শিক্ষকের যোগদান ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১৩

১১

সাতক্ষীরায় সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা

১২

মাদরাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের অভিযোগে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

১৩

সরকারি স্কুলে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি

১৪

বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৫

এনসিপিতে ‘সুপার ইলেভেন’ থেকে ‘সুপার সিক্স’, শীর্ষ পদে আসছেন চার নেতা

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত