সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পর নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধে ঢাকা থেকে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ৮২টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ৬২টি ফ্লাইটের কারণে ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইট ও যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাহত হওয়া ৮২টি ফ্লাইটের মধ্যে ৩২টি সরাসরি রুটের এবং ৫০টি ট্রানজিট রুটের। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি রয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ভারতের ইন্ডিগোর ২২টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, ওমানের সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংযোগকারী ফ্লাইটের যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১২ অক্টোবর ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর আগে রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে দাম্মামগামী ফ্লাইটও এর আওতায় আনা হয়।
বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের সব ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব সিদ্ধান্তের কারণে যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।
হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় কর্মস্থলে ফেরা প্রবাসী, ওমরাহযাত্রী এবং অন্যান্য ভ্রমণকারীরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইটের পরিবর্তিত সময়সূচি সম্পর্কে জানতে গিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। যাত্রার পরিকল্পনা, কর্মস্থলে যোগদান এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের সঙ্গে মিল রেখে ভ্রমণসূচি ঠিক করা নিয়েও তাঁদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বেবিচক জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।