অভিযুক্ত পলাতক, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান; প্রভাবশালীদের চাপের অভিযোগ পরিবারের
সাতক্ষীরার সদর উপজেলায় প্রথম শ্রেণির সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি বাড়ির ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন (৬০) পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) শিশুটির মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলাটি করেন। এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের মৃত আছিদুর রহমান খান চৌধুরীর ছেলে। তিনি ঝাউডাঙা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের শ্যালক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা প্রবাসে থাকেন। মা অন্যত্র থাকায় শিশুটি ওয়ারিয়া গ্রামে দাদি ও চাচির কাছে থেকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে বের হয়। অন্য শিশুরা বাড়ি ফিরলেও সে না ফেরায় দাদি ও চাচি তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদ থেকে শিশুটিকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে মোশাররফ শিশুটিকে ছাদে নিয়ে যান এবং সেখানে নির্যাতন করেন।
শিশুটির স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ কারণে প্রথমদিকে তাঁরা শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিতেও ভয় পান। পরদিন রোববার তাঁরা তাকে যশোরের বাগআঁচড়ায় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। মঙ্গলবার তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক হাকিম তনিমা মণ্ডলের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হক।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং শিশুটির চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপরিদর্শক (এসআই) শাহারিয়ারকে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে ঝাউডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন, ঘটনাটি জানার পর তিনি সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, রফিকুল ইসলাম স্পষ্ট কোনো উত্তর না দিয়েই সেখান থেকে চলে যান।
অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ পরীক্ষা করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তাঁর শ্যালক অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।