ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমের শহরতলিতে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার চলন্ত গাড়ি থেকে বিভিন্ন স্থানে গুলি চালানোর এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির কার্যালয়।
ফ্রান্সের ত্রাপ ও পার্শ্ববর্তী লা ভেরিয়ের এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনিয়েজ জানান, প্রায় ১৫ মিনিট ধরে সহিংসতা চলে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে।
জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে এমন একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে হামলার উদ্দেশ্য এবং সন্দেহভাজনের সঙ্গে কোনো সংগঠনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ত্রাপ শহরের মেয়র আলি রাবেহ সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার সকালে এক ব্যক্তি গাড়ি চালানোর সময় সামনে থাকা কয়েকজন মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ধূসর রঙের একটি রেনল্ট ক্লিও গাড়ি নিয়ে একাধিক এলাকায় ঘুরে গুলি চালান।
মেয়র রাবেহর দাবি, হামলাকারী ত্রাপের একটি পেট্রোল পাম্প, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি খেলার মাঠে থাকা মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করেন। এরপর তিনি গাড়ি নিয়ে পাশের লা ভেরিয়েরের দিকে চলে যান। মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর উদ্দেশ্য ছিল যত বেশি সম্ভব মানুষের প্রাণহানি ঘটানো।
পুলিশ ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা জানান, শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রধান এন১০ সড়কের পাশের লা ভেরিয়ের এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তবে তাঁর পরিচয়, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
হামলার পেছনে বর্ণবাদ বা ইসলামবিদ্বেষ কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মেয়র আলি রাবেহ বলেন, নিহত ব্যক্তি আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ছিলেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজন উত্তর আফ্রিকান বংশোদ্ভূত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে হামলার পেছনে বর্ণবাদী বা ইসলামবিদ্বেষী উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন মেয়র। তবে তদন্তকারীরা এখনো এ ধরনের কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেননি।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনিয়েজ ত্রাপে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি স্পষ্টতই গুরুতর সহিংসতা, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সে শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভের কর্মসূচি সামনে রেখে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিক্ষোভের সঙ্গে হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা হামলার ঘটনাপ্রবাহ, সন্দেহভাজনের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছেন।