শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টের পর, কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসেও তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন দেবদূত পাডিক্কাল
মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেলেন দেবদূত পাডিক্কাল। দুই ওভার পর, স্লিপে আরেকবার জীবন পেলেন তিনি। এরপর আর শ্রীলঙ্কাকে কোনো সুযোগ দিলেন না টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। তার চমৎকার সেঞ্চুরিতে শক্ত ভিত পেল ভারত। কলম্বোয় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে ভারতের রান ৫ উইকেট হারিয়ে ঠিক ৩০০।
শূন্য ও এক রানে জীবন পাওয়া পাডিক্কাল করেছেন ১১৭ রান। তার দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিটি গড়া ১২ চারে। লঙ্কানদের বিপক্ষে গলে আগের টেস্টেও তিন অঙ্কের স্বাদ পান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ১৬৭ রান করেন তিনি। পাডিক্কালের সঙ্গে ১২০ রানের জুটিতে ৬টি চারে ঠিক ৫০ রান করেছেন শুবমান গিল। চারটি চারে ৪৩ রান এসেছে রাভিন্দ্রা জাদেজার ব্যাট থেকে।
টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। একাদশ ওভারে লাহিরু কুমারার বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান লোকেশ রাহুল। ওই ওভারের শেষ বলে পয়েন্টে পাডিক্কালের ক্যাচ ফেলেন সোনাল দিনুশা। লাহিরুর পরের ওভারে অল্পের জন্য বেঁচে যান পাডিক্কাল। আর চতুর্দশ ওভারে কেশারা নুওয়ান্থার বলে স্লিপে তার ক্যাচ ছাড়েন ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা।
শুরুতে ধুঁকতে থাকা পাডিক্কাল নিজেকে দ্রুত গুছিয়ে নেন। আরেক প্রান্তে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করতে থাকেন ইয়াশাসভি জয়সওয়াল। তবে আসিথা ফের্নান্দোকে পাঁচ বলে তিনটি চার মারার পরের ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান ভারতীয় ওপেনার (৯ চারে ৪৫)।
এরপর দলকে টানেন পাডিক্কাল ও গিল। তাদের জুটিতে দুইশর কাছে পৌঁছে যায় ভারতের রান। এই সময়ে ৯০ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন পাডিক্কাল। গিলের পঞ্চাশ আসে ৯৯ বলে। নিজের ইনিংসটি আর বড় করতে পারেননি ভারত অধিনায়ক। আসিথার বলে ধরা পড়েন কিপার নিরোশান ডিকওয়েলার গ্লাভসে। হাতে বলের আঘাত পেয়ে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়েন রিশাভ পান্ত।
ওই ধাক্কার পর জাদেজাকে নিয়ে দলের রান বাড়ান পাডিক্কাল। ৭০তম ওভারে প্রাবাথ জায়াসুরিয়াকে টানা দুই চার মেরে ৯৯ রানে পৌঁছে যান তিনি। এক বল পর সিঙ্গল নিয়ে পা রাখেন কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়।
২০১৮-১৯ মৌসুমে চেতেশ্বর পুজারার পর, তিন নম্বরে নেমে টানা দুই টেস্টে সেঞ্চুরি পেলেন ভারতের কোনো ব্যাটসম্যান। চার টেস্টে পাডিক্কালের সেঞ্চুরি হয়ে গেল দুটি, সঙ্গে ফিফটি আছে একটি।
এক সময় মনে হচ্ছিল, পাডিক্কাল ও জাদেজার জুটিতে দিনের খেলা শেষ করবে ভারত। কিন্তু ৭৭তম ওভারে পাডিক্কালের বিদায়ে ভাঙে ৭৪ রানের যুগলবন্দি। নুওয়ান্থার চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান সেঞ্চুরিয়ান। দিনের শেষ ওভারে আসিথার বলে স্টাম্প হারান জাদেজাও।
৩৩ বছর ১৪৫ দিন বয়সে এদিন টেস্ট অভিষেক হয় সারানশ জৈনের। একবিংশ শতাব্দিতে সবচেয়ে বেশি বয়সে টেস্ট অভিষেক হওয়া ভারতীয় ক্রিকেটার তিনি। সব মিলিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে দশম। দিনের শেষ বেলায় ব্যাটিংয়ে নামা এই অলরাউন্ডারের সঙ্গে ক্রিজে আছেন ধ্রুব জুরেল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩০০/৫ (জয়সওয়াল ৪৫, রাহুল ১৮, পাডিক্কাল ১১৭, গিল ৫০, পান্ত ৩, জাদেজা ৪৩, জুরেল ৭*, সারানশ ৪*; আসিথা ১৬-৫-৪৬-৩, লাহিরু ১৩-৪-৩৮-১, জায়াসুরিয়া ২৭-৪-৯০-০, নুওয়ান্থা ২২-০-৯৩-১, দিনুশা ১-০-২-০, ধানাঞ্জায়া ২-০-৮-০, মিশারা ৪-০-১৬-০)