২০১৮ সালের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রত্যাবর্তনের দিনটা সুখকর হলো না সফরকারীদের। স্বাগতিক পেসারদের তোপে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে তারা। প্রথম দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৮৭ রান।
ডারবানে আলোকস্বল্পতার কারণে শুক্রবার আগেভাগেই শেষ হয় দিনের খেলা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ম্যাট রেনশ ও প্যাট কামিন্স অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। রেনশ ৪৬ ও কামিন্স ৩৩ রানে অপরাজিত আছেন। সপ্তম উইকেটে তাঁদের জুটি থেকে এসেছে ৬৩ রান।
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খায় দলটি। ট্রাভিস হেড ৯ রান করে ফিরলেও প্রায় ১০ বছর পর টেস্ট খেলতে নামা নিক ম্যাডিনসন কোনো রান না করেই আউট হন। ৩৩ বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন তিনি। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বল খেলে শূন্য রানে ফেরার নজির এটি। একবিংশ শতাব্দীতে টেস্ট খেলা ওপেনারদের মধ্যেও এত বল খেলে শূন্য রানে ফেরার ঘটনা এটিই প্রথম। এরপর মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ ৬০ রানের জুটি গড়ে দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। লাবুশেন করেন ৩৭ রান, আর স্মিথের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। তবে দুজনই দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ভিয়ান মুল্ডার ও মার্কো ইয়ানসেনের শিকার হন।
এরপর আনরিখ নরকিয়ার আঘাতে আরও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। অ্যালেক্স কেয়ারি ১৪ রান করে ফেরার পর বাউ ওয়েবস্টারও টিকতে পারেননি। প্রথম বলে চার মারলেও পরের বলেই আউট হন তিনি। একপর্যায়ে ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সফরকারীরা। সেখান থেকে রেনশ ও কামিন্সের প্রতিরোধে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে। রেনশ তিনটি চার মেরেছেন, কামিন্সের ইনিংসে আছে পাঁচটি চার। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিন পেসারই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ইয়ানসেন ৩৫, মুল্ডার ৩১ ও নরকিয়া ৪০ রান দিয়ে দুটি করে উইকেট পেয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৬৫.২ ওভারে ১৮৭/৬ (ম্যাডিনসন ০, হেড ৯, লাবুশেন ৩৭, স্মিথ ৪৬, রেনশ ৪৬*, কেয়ারি ১৪, ওয়েবস্টার ৪, কামিন্স ৩৩*)। বোলিং: মার্কো ইয়ানসেন ১৬-৭-৩৫-২, ভিয়ান মুল্ডার ১৫-৬-৩১-২, আনরিখ নরকিয়া ১৩.২-২-৪০-২, কেশাভ মহারাজ ৭-০-৩৩-০, হার্মার ১৪-১-৩৪-০।
(প্রথম দিন শেষে)