সাদারল্যান্ডের ৪ উইকেট ও লিচফিল্ডের ঝোড়ো ফিফটিতে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ শুরু জয় দিয়ে
অস্ট্রেলিয়া ১৬৮/৩, বাংলাদেশ ১৬৬—স্কোরকার্ডে ব্যবধানটা সামান্য মনে হলেও মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের পার্থক্য ছিল স্পষ্ট। ব্রিসবেনে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের মেয়েদের ৭ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ইনিংস থামিয়ে দেওয়ার পর রান তাড়ায়ও দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের চার উইকেট ও ফিবি লিচফিল্ডের ঝোড়ো ৭৭ রানের ইনিংসে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।
শুক্রবার ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে ১৬৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ২৫.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য ১৪৬ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচসেরা হন সাদারল্যান্ড।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে প্রথমবার ওয়ানডে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই সফরের প্রথম ম্যাচে ভালো কিছু করার সুযোগ থাকলেও ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিগার সুলতানার দল। ইনিংসের প্রথম বলেই মেগান শুটের শিকার হন ফারজানা হক। বাড়তি বাউন্সে ব্যাটের কাঁধে লেগে বল চলে যায় স্লিপে ফিবি লিচফিল্ডের হাতে। নিজের পরের ওভারে শারমিন সুলতানাকে এলবিডব্লিউ করে বাংলাদেশকে আরও চাপে ফেলেন শুট। মাত্র ১১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন শারমিন আক্তার ও অধিনায়ক নিগার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো করেছিলেন শারমিন আক্তার। পাঁচটি চারে ২৬ বলে ২৪ রান করে অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। সাদারল্যান্ডের বলে অ্যালানা কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। এরপর ১৭ বলে ২ রান করে সাদারল্যান্ডের দ্বিতীয় শিকার হন সোবহানা মোস্তারি। এক প্রান্তে উইকেট ধরে রাখলেও বাংলাদেশের ইনিংসে গতি ফেরাতে পারেননি নিগার। ৮৬ বল খেলে ২৯ রান করেন অধিনায়ক। ৮৩ রানে তাঁর বিদায়ের পরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ৫০ বলে ২১ রান করে আউট হন স্বর্ণা আক্তার। এরপর রাবেয়া খানও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি।
একপর্যায়ে ১২২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন রিতু মনি। অভিজ্ঞ এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার পাঁচটি চারে ৬৩ বলে ৪৫ রান করেন। তাঁর ইনিংসেই দেড়শ পেরোয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। শেষ দিকে নাহিদা আক্তার ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৯.৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন সাদারল্যান্ড। ১০ ওভারে চারটি মেডেনসহ মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট পান শুট। প্রথম বলেই ফারজানাকে ফেরানোর পর শারমিন সুলতানাকে আউট করে ওয়ানডেতে নিজের ১৫০তম উইকেটও পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার।
১৬৭ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য কঠিন হয়ে ওঠেনি। তবে অভিষিক্ত পেসার হাবিবা ইসলাম পিংকি শুরুতে জর্জিয়া ভোলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে সামান্য স্বস্তি দেন। এরপর লিচফিল্ড ও এলিসা পেরির জুটি দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
লিচফিল্ড ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বাঁহাতি ওপেনার। তাঁর সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে পেরির ৮৯ রানের জুটি বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার পথ প্রায় বন্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত রাবেয়া খানের বলে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিচফিল্ড। ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৭ বলে ৭৭ রান করেন তিনি। এরপর হাবিবা নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে বেথ মুনিকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান প্রায় তুলে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। পেরি ২৬ এবং সাদারল্যান্ড ২৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশের পক্ষে হাবিবা পিংকি ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। রাবেয়া খান পান একটি উইকেট। তবে স্বাগতিকদের রান তোলার গতি থামানোর মতো বোলিং করতে পারেনি বাংলাদেশ।
সিরিজে সমতা ফেরানোর সুযোগ এখন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। একই মাঠে আগামীকাল রোববার মুখোমুখি হবে দুই দল। প্রথম ম্যাচের ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ইনিংস খেলতে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৯.৪ ওভারে ১৬৬ (ফারজানা ০, শারমিন সুলতানা ৪, শারমিন আক্তার ২৪, নিগার ২৯, সোবহানা ২, স্বর্ণা ২১, রিতু ৪৫, রাবেয়া ১১, নাহিদা ১৯*, হাবিবা ১, মারুফা ০; শুট ১০-৪-১৯-২, গার্থ ৮-১-৩৩-০, সাদারল্যান্ড ৯.৪-২-৩০-৪, কিং ৮-০-২৫-০, গার্ডনার ৭-০-৩০-১, ম্যাকগ্রা ৩-০-৯-১, ওয়ারহ্যাম ৪-১-১৭-১)
অস্ট্রেলিয়া: ২৫.৪ ওভারে ১৬৮/৩ (ভোল ১৯, লিচফিল্ড ৭৭, পেরি ২৬*, মুনি ১৩, সাদারল্যান্ড ২৫*; মারুফা ৪-০-৩৫-০, হাবিবা ৬-০-৩৬-২, নাহিদা ৪.৪-০-২৯-০, রাবেয়া ৭-০-৩২-১, রিতু ৪-০-৩৬-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০তে এগিয়ে
ম্যাচসেরা: অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড