হোপের অপরাজিত সেঞ্চুরি, রাদারফোর্ডের ৮৪; ২৫০ রান তাড়া করে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার জয় ক্যারিবীয়দের
এক প্রান্তে শেই হোপ, অন্য প্রান্তে শেরফেন রাদারফোর্ড—দুজনের ব্যাটে ছক্কার বৃষ্টি। তাতে উড়ে গেল ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্য। রাঁচিতে শুক্রবার রাতে চার-ছক্কার উৎসবে ভরা ম্যাচে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
ভারতের ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের জবাবে ১৮.৩ ওভারেই ৪ উইকেটে ২৫২ রান তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দলের ইনিংস মিলিয়ে রান হয়েছে ৫০১। এই সংস্করণে এক ম্যাচে এর চেয়ে বেশি রান হয়েছে কেবল একবার—২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে ৫১৭ রান।
জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ১০ রান। হোপেরও তখন সেঞ্চুরি থেকে দূরত্ব ১০ রান। আকসার প্যাটেলের বলে দুটি ছক্কা মেরে একসঙ্গে ব্যক্তিগত মাইলফলক ও দলের জয় নিশ্চিত করেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। ৯টি ছক্কা ও ৬টি চারে ৪৫ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।
তবে জয়ের ভিত গড়ে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। ৩৭ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রাদারফোর্ড। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার ও ৭টি ছক্কা। চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৫৪ বলে ১২০ রান যোগ করেন দুজন। টি-টোয়েন্টিতে এই সংস্করণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি।
অথচ রান তাড়ার শুরুটা ছিল ভয়াবহ। প্রথম ওভারের মধ্যেই কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়ে দেন ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব। পরে রভম্যান পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে আউট হলে ৫৮ রানেই ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন ভারতের হাতেই মনে হচ্ছিল।
সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন হোপ ও রাদারফোর্ড। দুজনই ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। ভারতের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে তাঁরা রান তোলার গতি এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যে, নিয়মিত উইকেট হারানোর চাপও আর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ১৫তম ওভারে কুলদীপ যাদবের বলে রাদারফোর্ড আউট হলে ভাঙে এই বিধ্বংসী জুটি। তখনও ৩৫ বলে প্রয়োজন ছিল ৭২ রান। কিন্তু রোমারিও শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে হোপ বাকি কাজ শেষ করেন। শেফার্ড মাত্র ১৩ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে বড় সংগ্রহ এনে দেন সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলে ৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা। শুরুতে জীবন পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। মাত্র ২১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন স্যামসন। অভিষেক শর্মা ১২ বলে ২০ রান করে ফিরলেও স্যামসনের সঙ্গে আক্রমণ চালিয়ে যান ঈশান কিষান। ২২ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৯৭ রান। ১১ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১৩৯। এরপর রস্টন চেইস নিজের স্পিনে ম্যাচে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরান। ঈশান ও শিবম দুবেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর স্যামসনকেও বিদায় করেন তিনি। চার ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন চেইস।
শেষ দিকে শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা আবারও ভারতের স্কোরবোর্ড সচল করেন। পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৩৩ বলে ৮৩ রান যোগ করেন তাঁরা। শ্রেয়াস ১৮ বলে ৪০ এবং তিলক সমান বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন। তাঁদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভারত পৌঁছে যায় ২৪৯ রানে—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। কিন্তু এমন বড় সংগ্রহও যথেষ্ট হলো না। মায়াঙ্ক যাদব ৩৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নিলেও অন্য বোলাররা হোপ ও রাদারফোর্ডকে থামাতে পারেননি। বিশেষ করে আকসার প্যাটেলের ৩.৩ ওভারে ৬৩ রান খরচ ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরল। প্রথম ম্যাচে হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন প্রত্যাবর্তনে সিরিজের লড়াই আরও জমে উঠল। হোপের সেঞ্চুরি ও রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ইনিংস শুধু ম্যাচ জেতায়নি, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছে।