শুরুতেই অধিনায়কের ভুলে গোল হজম, আধা ঘণ্টার মধ্যে ব্যবধান ২-০। অ্যানফিল্ডে তখন লিভারপুলের জন্য কঠিন এক রাতের শঙ্কা। কিন্তু দুই গোলের ধাক্কা সামলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইংলিশ ক্লাবটি। বিরতির আগেই সমতা ফেরানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত আরও দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করল তারা। শেষ দিকে ভিয়ারেয়াল ব্যবধান কমিয়ে নাটকীয়তার আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।
মঙ্গলবার রাতে সাত গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে লিভারপুলের প্রত্যাবর্তনের নায়ক আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার করেন জোড়া গোল। অন্য গোলটি করেন বার্সেলোনা থেকে ধারে আসা ডিফেন্ডার রোনাল্দ আরাউহো ও জার্মান মিডফিল্ডার ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে লিভারপুল। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে পিএসজি। অন্যদিকে তিন ম্যাচে এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ১৯ নম্বরে রয়েছে ভিয়ারেয়াল।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই নিজেদের ভুলে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল। প্রতিপক্ষের একটি ক্রস হেডে সতীর্থের কাছে পাঠাতে গিয়ে বল তুলে দেন জর্জেস মিকাউতাদসের পায়ে। সুযোগ পেয়ে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জর্জিয়ার এই ফরোয়ার্ড। শুরুতেই গোল হজমে স্তব্ধ হয়ে যায় অ্যানফিল্ড।
২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভিয়ারেয়াল। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে এগিয়ে যান সের্হি কার্দোনা। এরপর বক্সে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে কঠিন চাপে পড়ে লিভারপুল।
তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় স্বাগতিকরা। ৩৬ মিনিটে কস্তাস সিমিকাসের কর্নার থেকে কোনাকুনি হেডে ব্যবধান কমান ম্যাক অ্যালিস্টার। গোলের পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় লিভারপুল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতাসূচক গোলটিও পেয়ে যায় তারা। বাঁ দিক থেকে ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার রিও নুগোমোহা দূরের পোস্টে ক্রস বাড়ান। গোলমুখে সেই বল পেয়ে হেডে জাল খুঁজে নেন রোনাল্দ আরাউহো। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বিরতিতে যাওয়ার আগেই ২-২ সমতায় ফেরে লিভারপুল।
বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল ধরে রাখে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে তারা। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করেন নুগোমোহা। তাঁর বাড়ানো বলে প্রথম ছোঁয়ার শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় লিভারপুল।
গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যবধান ৪-২ করে স্বাগতিকরা। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে কোডি গাকপোর পাস পান ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস। বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠান জার্মান মিডফিল্ডার। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় লিভারপুল।
তবে হাল ছাড়েনি ভিয়ারেয়াল। নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে গোল করে ব্যবধান কমান তাদের ফরোয়ার্ড তানিতলুয়া। তাতে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও উত্তেজনা ফিরে আসে। সমতা ফেরানোর আশায় আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্প্যানিশ দলটি।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য আর কোনো গোল হজম করেনি লিভারপুল। দুই গোলের ঘাটতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-৩ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় তারা।
২০২১-২২ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল ও ভিয়ারেয়াল। সেবার দুই লেগেই জিতে ফাইনালে উঠেছিল ইংলিশ ক্লাবটি। এবারও স্মরণীয় কিছু করার আশা নিয়ে অ্যানফিল্ডে এসেছিল স্প্যানিশ দলটি। দুই গোলে এগিয়ে থেকে সেই সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েই ফিরতে হলো তাদের।
লিভারপুলের জন্য এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাসও। তবে শুরুতে রক্ষণভাগের ভুল এবং শেষ দিকে গোল হজমের ঘটনা কোচের জন্য ভাবনার বিষয় হয়ে থাকবে।