নিরাপত্তা ও জাতীয় কর্মকৌশল নির্ধারণে নতুন কাঠামো

পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন কমিটি: শান্তিচুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যের প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০
 ছবি:

পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও জাতীয় কর্মকৌশল নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের তিনটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব কমিটি গঠনের কথা প্রকাশিত হয়। সরকারের উদ্দেশ্য পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়, উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি এবং একটি জাতীয় কর্মকৌশল নির্ধারণ। তবে নতুন এই কাঠামো ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন, আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রাধান্য নিয়ে।

সরকারের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)। সংগঠনটির অভিযোগ, নতুন কাঠামোয় জাতীয় কমিটিকে সিদ্ধান্ত নির্ধারণী ভূমিকা এবং নির্বাহী কমিটিকে কর্মকৌশল প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হলেও আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে মূলত পরামর্শ দেওয়ার পর্যায়ে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় পার্বত্য সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের বদলে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক পদ্ধতি প্রাধান্য পেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তবে এগুলো পিসিজেএসএসের মূল্যায়ন ও অভিযোগ; কমিটি গঠনমাত্রেই শান্তিচুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রজ্ঞাপনের পূর্ণাঙ্গ ভাষা, সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান এবং কমিটিগুলোর বাস্তব কার্যক্রম পর্যালোচনা প্রয়োজন।

নতুন কমিটির ক্ষমতা ও নিরাপত্তা কাঠামো

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সদস্যের জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির কাজের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম তদারকি, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যপরিধি সমন্বয় এবং জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্ত করার বিষয় রয়েছে।

নির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। পিসিজেএসএসের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। কমিটির দায়িত্বের মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং টেকসই নিরাপত্তার জন্য প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে সংশোধন, সংস্কার বা নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশের বিষয় রয়েছে। একই বিবৃতি অনুসারে, নির্বাহী কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

এই কার্যপরিধির মধ্যেই বিতর্কের প্রধান জায়গা। নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ দমন সরকারের দায়িত্বের অংশ। পার্বত্য অঞ্চলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু একই কমিটির কার্যপরিধিতে শান্তিচুক্তির শর্ত পর্যালোচনা, আইন সংশোধন ও নতুন বিধিবিধান প্রণয়নের সুপারিশের বিষয় যুক্ত হলে প্রশ্ন ওঠে—এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য কি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নাকি চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের পথ তৈরি করা?

এই প্রশ্নের উত্তর কেবল কমিটির নাম বা সদস্যদের পরিচয় দেখে দেওয়া সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে তাদের ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সীমা কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, কোনো আইন সংশোধনের আগে সংশ্লিষ্ট পরিষদের সঙ্গে আলোচনা বাধ্যতামূলক কি না এবং কমিটির সুপারিশ কী প্রক্রিয়ায় সরকারের সিদ্ধান্তে পরিণত হবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, কোনো কমিটি আইন সংশোধনের সুপারিশ করতে পারে বলেই তার সুপারিশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন হয়ে যায় না। আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

আঞ্চলিক পরিষদের আইনগত অবস্থান

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রমের সমন্বয় ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়। ১৯৯৮ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনে পরিষদটিকে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও শান্তিচুক্তি ও আঞ্চলিক পরিষদ আইনকে সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এই আইনের ৫৩ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বা পরিষদ-সম্পর্কিত কোনো আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিলে আঞ্চলিক পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়ন বা অধিবাসীদের কল্যাণের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আইনের পরিবর্তন কিংবা নতুন আইনের প্রয়োজন দেখা দিলে পরিষদ সরকারের কাছে আবেদন বা সুপারিশও করতে পারে।

অতএব, আঞ্চলিক পরিষদকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম-সম্পর্কিত আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ১৯৯৮ সালের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: কোনো উচ্চপর্যায়ের সরকারি কমিটি গঠন করা এবং ওই কমিটির মাধ্যমে আইনগত ক্ষমতাসম্পন্ন পরিষদের কর্তৃত্ব খর্ব করা এক বিষয় নয়। কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনেই যদি পরিষদের আইনগত ক্ষমতা বাতিল বা সংকুচিত না করা হয়, তাহলে শুধু নতুন কমিটি গঠনের ভিত্তিতে আইন লঙ্ঘনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, নতুন কমিটিগুলো কীভাবে কাজ করবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত বিদ্যমান আইনে প্রতিষ্ঠিত পরিষদগুলোর দায়িত্বের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করবে কি না।

পিসিজেএসএসের বক্তব্য, নতুন ব্যবস্থায় আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র থেকে দূরে রেখে পরামর্শ দেওয়ার পর্যায়ে রাখা হয়েছে। পরামর্শক কমিটিতে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের পরিবর্তে তাঁর প্রতিনিধি রাখা হয়েছে বলেও সংগঠনটি আপত্তি তুলেছে। এ বিষয়ে সরকারি ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের পূর্ণাঙ্গ পাঠ যাচাই করে পরিষদগুলোর প্রকৃত ক্ষমতা ও ভূমিকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

শান্তিচুক্তি কি শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংকটের সঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকলেও এর পরিধি শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়। ভূমির অধিকার, শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন, স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং চুক্তির অসম্পূর্ণ বাস্তবায়ন—এসব বিষয়ও সংকটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে নতুন কমিটিগুলোর কার্যক্রমে নিরাপত্তার পাশাপাশি চুক্তির বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক সংলাপ কতটা গুরুত্ব পাবে, তা বিশেষভাবে বিবেচ্য।

সরকারি কার্যপরিধিতে নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনের বিষয় থাকাকে একা চুক্তিবিরোধী বলা যায় না। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল যদি স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন, নির্বাচিত ও আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ এবং চুক্তির অসম্পূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হতে পারে।

এখানেই কমিটিগুলোর গঠন ও নেতৃত্বের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ও নির্বাহী কমিটিতে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি প্রশাসনিক সমন্বয়ে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব, আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী এবং চুক্তির পক্ষগুলোর মতামত কতটা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হবে, তা স্পষ্ট থাকা দরকার। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রীয় সংস্থার ভূমিকা থাকলেও রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব কি না—সেটিও নীতিনির্ধারণী প্রশ্ন।

পিসিজেএসএসের অভিযোগ, কমিটিগুলোর কাঠামোয় সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রাধান্য রয়েছে এবং চুক্তি বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনার বদলে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কর্মকৌশলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে কমিটিগুলোর উদ্দেশ্য, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিতর্কটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে। উপলভ্য প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে এসব নির্দিষ্ট আপত্তির বিস্তারিত জবাব নিশ্চিত করা যায়নি।

ভূমি কমিশন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার

পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম জটিল সমস্যা ভূমি বিরোধ। এ সমস্যা নিষ্পত্তির জন্য ২০০১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়। আইনটির উদ্দেশ্য পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি কমিশন প্রতিষ্ঠা ও তার কার্যক্রমের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা। কমিশনের গঠনে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে।

এই বিধান থেকে বোঝা যায়, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা আইনগতভাবে স্বীকৃত। ফলে নতুন কমিটিগুলোর সুপারিশ যদি ভূমি ব্যবস্থাপনা বা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামো পরিবর্তনের দিকে যায়, তাহলে বিদ্যমান কমিশনের আইন, এখতিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট পরিষদগুলোর ভূমিকার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য যাচাই করা জরুরি। কোনো জাতীয় কমিটি ভূমি বিরোধের নীতিগত দিক নিয়ে আলোচনা করতে পারে; কিন্তু তাতে আইন দ্বারা নির্ধারিত কমিশনের ক্ষমতা বা দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যায় না।

একইভাবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম-সম্পর্কিত কোনো আইন সংশোধনের প্রশ্ন উঠলে আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রযোজ্য আইন একসঙ্গে পর্যালোচনা করতে হবে। একাধিক আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত সংস্থার ক্ষমতা ও দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে নতুন কাঠামো প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। আর স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক আস্থার সংকটও বাড়াতে পারে।

চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি কোথায়

নতুন তিন কমিটির প্রয়োজনীয়তা বিচার করতে হলে আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে—শান্তিচুক্তির যেসব বিষয় এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলো নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী? শুধু নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য কমিটি গঠন করলেই চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে না। বরং চুক্তির কোন কোন ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনগুলো অসম্পূর্ণ, কোথায় আইন সংশোধন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন এবং কোন কাজের জন্য কত সময় লাগবে—এসব নিয়ে প্রকাশ্য ও সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের মতামতকে কার্যকরভাবে যুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সক্ষমতা, শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির মতো বিষয়কে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। চুক্তির বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের দায়িত্বে থাকা কাঠামোর সঙ্গে নতুন কমিটিগুলোর কাজের সম্পর্কও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সরকারের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে তিন কমিটির দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমানা জনসমক্ষে পরিষ্কার করা। কোন কমিটি নীতিগত সিদ্ধান্তের সুপারিশ করবে, কোনটি বাস্তবায়ন তদারকি করবে এবং কোন বিষয়গুলোতে আঞ্চলিক পরিষদ বা জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা বাধ্যতামূলক—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে দ্ব্যর্থতা কমবে। পাশাপাশি শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের একটি সময়ভিত্তিক রূপরেখা প্রকাশ করা হলে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক উদ্যোগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমাধানের সম্পর্কও মূল্যায়ন করা সহজ হবে।

সব মিলিয়ে, পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনকে সরাসরি ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির লঙ্ঘন বলে ঘোষণা করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ শুধু কমিটি গঠনের খবর থেকে পাওয়া যায় না। তবে কমিটিগুলোর কার্যপরিধিতে আইন ও চুক্তির শর্ত পর্যালোচনার বিষয় থাকা, নিরাপত্তা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবস্থান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। কমিটিগুলো যদি বিদ্যমান আইন ও চুক্তির কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করে, আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদগুলোর আইনগত ভূমিকা অক্ষুণ্ণ রাখে এবং চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি আনে, তাহলে তা প্রশাসনিক সমন্বয়ে সহায়ক হতে পারে। বিপরীতে, যদি নতুন কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত পরিষদগুলোর ক্ষমতা পাশ কাটিয়ে সমান্তরাল সিদ্ধান্ত গ্রহণব্যবস্থা তৈরি হয়, তাহলে চুক্তির কাঠামো ও চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যের গুরুতর প্রশ্ন উঠবে।

এ কারণে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো তিন কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞাপন ও কার্যপরিধি জনসমক্ষে স্পষ্ট করা, সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর সঙ্গে তার সামঞ্জস্য যাচাই করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা নিশ্চিত করা। দীর্ঘমেয়াদি শান্তির প্রশ্নে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয় প্রয়োজনীয় হলেও, তা যেন শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়।

১

মোহামেডানের ড্র, কিংসের জয়

২

ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যানচেস্টার সিটির গোল উৎসব

৩

৭ গোলের নাটকীয় লড়াইয়ে লিভারপুলের জয়

৪

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সেলোনার জয়রথ থামাল পিএসজি

৫

মহানবমী পালন: উৎসবের আনন্দের মাঝেই বিদায়ের সুর

৬

বাংলাদেশ-নেপালের প্রসঙ্গ টেনে ভারতে ‘শাসন পরিবর্তন’ নিয়ে আরএসএস প্রধানের হুঁশিয়ারি

৭

পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন কমিটি: শান্তিচুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যের প্রশ্ন

৮

টোকিওতে বৈঠকে বসছেন তারেক-তাকাইচি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে গুরুত্ব

৯

বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি: যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদন

১০

গোয়ার কাছে হেরে ফর্টিসের বিদায়

১১

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বাঁচা-মরার লড়াই

১২

ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ ভারত

১৩

৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞায় রোনালদো

১৪

সৌদি আরবের রাজধানীতে বিস্ফোরণ

১৫

ডিআইজির বাড়িতে মাদকের আসর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রমাণ: জামায়াত আমির

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত