রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে, মতপ্রকাশের সুযোগ বেড়েছে

বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি: যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদন

আজাদ প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০
 ছবি:

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বেড়েছে এবং সহিংসতা কমেছে। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা, মতপ্রকাশ ও জনআলোচনায় অংশগ্রহণের বেশি সুযোগ পাচ্ছে।

তবে পরিস্থিতির এই উন্নতির পাশাপাশি দুর্নীতি, পুলিশের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি এবং গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রস্তাবিত বিস্তৃত সংস্কার বাস্তবায়নের ধীরগতিকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় এখনো সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।

‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৫ জুন দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিন কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফর করেন। তাঁরা ঢাকা সফরে সরকারি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, সাংবাদিক ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন। মোট ১৫টি সূত্রের ২৪ জনের সঙ্গে ১৫টি সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনটির উদ্দেশ্য ছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, শেখ হাসিনা সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অবস্থা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। প্রতিবেদনটি মূলত যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে; সব বক্তব্যকে যুক্তরাজ্য সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বা সমর্থন হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের নির্বাহী সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেরিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে উন্নতি ঘটেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা, সভা-সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণা, প্রতিবাদ এবং সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ বেড়েছে।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মূল্যায়নে নির্বাচনটি সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনে সহিংসতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা আরও কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল বিরোধী রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে। এসব দল সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়া, জনসমাবেশ করা, প্রচার চালানো এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে, দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংঘাতের অনেক ঘটনা জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিরোধের চেয়ে স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব এসব সংঘাতের অন্যতম কারণ।

অর্থাৎ, জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের ঝুঁকি রয়ে গেছে। রাজনৈতিক সহিংসতা কমার যে চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার পাশাপাশি এই সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাজ করার পরিবেশেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন নিজেদের মতামত প্রকাশ, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বেশি সুযোগ পাচ্ছে।

তবে মতপ্রকাশের সুযোগ বেড়েছে বলে সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি প্রতিবেদনটি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং দলটির সমর্থকদের প্রতি সামাজিক বিরূপ মনোভাবের বিষয়টি আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে ক্ষমতায় থাকাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রভাব রয়েছে। দলটি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে দলটির পরিচয়, সমর্থক ও অনুসারীরা এখনো রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি, সহিংসতা বা দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত না থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের অনেক সমর্থক সাধারণভাবে নিজেদের এলাকায় বসবাস করতে পারছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে দলটির প্রতি সমর্থন জানালে কেউ কেউ হয়রানি, সামাজিক বিরূপতা কিংবা সহিংসতার মুখে পড়তে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের কিছু সাবেক সদস্য অন্য রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েছেন, দেশের ভেতরে অন্য এলাকায় চলে গেছেন অথবা দেশ ছেড়েছেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদনে একদিকে রাজনৈতিক দল ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ও সামাজিক প্রতিকূলতার বাস্তবতাও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের সামগ্রিক উন্নতির মূল্যায়ন করতে গেলে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য সমান পরিসর নিশ্চিত হওয়ার প্রশ্ন দুটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টিও প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত ২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার কাজ এখনো চলছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ১৯ অক্টোবর হালনাগাদ করা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক আরেকটি মূল্যায়নে আরও বিস্তৃত পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোনো মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচিত হলে তা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের বরাতে ওই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা মামলার কার্যক্রম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা এবং ২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহারের তথ্য এক নয়; একটি মামলার সংখ্যা, অন্যটি ব্যক্তির সংখ্যা।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নেতা, কর্মী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সাধারণ আদালত—উভয় ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, আবার অনেকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রয়েছেন।

প্রতিবেদনটি এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পুরোনো মামলা প্রত্যাহার এবং সাবেক সরকারের আমলে সংঘটিত কথিত অপরাধের বিচার—দুটি বিষয়কে পৃথকভাবে দেখেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুতর অপরাধের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা, প্রমাণ, অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রতিবেদনে আলোচনা রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা তথ্য-অনুসন্ধান মিশনকে জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তাঁরা তুলে ধরেছেন।

তবে পুলিশের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগের অবসান হয়নি। প্রতিবেদনের নির্বাহী সারসংক্ষেপে দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি এবং কার্যকারিতার ঘাটতিকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার মূল্যায়ন থাকলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কার, পেশাদারত্ব এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্তৃত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের অগ্রগতি সীমিত। কয়েকটি সূত্র মনে করে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তবে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কাল বিবেচনায় নিয়ে কিছু সূত্র পরিবর্তনের অগ্রগতি মূল্যায়নে আরও সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন শুধু সরকার বদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি, বিচারপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নও জড়িত। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে আইনের শাসন, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অক্টোবর ২০২৬-এর তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে। একদিকে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা, নির্বাচনের তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সহিংসতা হ্রাস এবং মতপ্রকাশের সুযোগ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা, দলটির সমর্থকদের সম্ভাব্য হয়রানি, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাত, পুলিশের জবাবদিহি এবং সংস্কার বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে পুরোপুরি সংকটমুক্ত হিসেবে চিত্রিত করেনি। বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষা এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও কাজ বাকি রয়েছে—এমন চিত্রই এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

১

মোহামেডানের ড্র, কিংসের জয়

২

ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যানচেস্টার সিটির গোল উৎসব

৩

৭ গোলের নাটকীয় লড়াইয়ে লিভারপুলের জয়

৪

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সেলোনার জয়রথ থামাল পিএসজি

৫

মহানবমী পালন: উৎসবের আনন্দের মাঝেই বিদায়ের সুর

৬

বাংলাদেশ-নেপালের প্রসঙ্গ টেনে ভারতে ‘শাসন পরিবর্তন’ নিয়ে আরএসএস প্রধানের হুঁশিয়ারি

৭

পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন কমিটি: শান্তিচুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যের প্রশ্ন

৮

টোকিওতে বৈঠকে বসছেন তারেক-তাকাইচি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে গুরুত্ব

৯

বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি: যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদন

১০

গোয়ার কাছে হেরে ফর্টিসের বিদায়

১১

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বাঁচা-মরার লড়াই

১২

ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ ভারত

১৩

৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞায় রোনালদো

১৪

সৌদি আরবের রাজধানীতে বিস্ফোরণ

১৫

ডিআইজির বাড়িতে মাদকের আসর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রমাণ: জামায়াত আমির

১

ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা

২

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ

৩

মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর

৪

আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

৫

গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি

৬

বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

৭

মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির

৮

২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!

৯

নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ

১০

বনানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২

১১

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত যেসব চাকরির পরীক্ষা

১২

নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ

১৩

৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

১৪

নারায়ণগঞ্জের আলোর বাতিঘর ‘সুধীজন পাঠাগার’

১৫

মাদ্রাসায় গ্রামীণ ফোন করপোরেট নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সম্পর্কিত