চোটের কারণে অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর অনুপস্থিতি আর আর্লিং হালান্ডকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। তবে আক্রমণভাগে তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি ফিল ফোডেন। দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে দলকে বড় জয় এনে দিয়েছেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। তাঁর সঙ্গে গোল উৎসবে যোগ দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও রায়ান শের্কি। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের জালে পাঁচবার বল পাঠিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ের ধারায় ফিরেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
মঙ্গলবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে গ্রিসের ক্লাব এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের ১২ মিনিটে অ্যান্ডারসন প্রথম গোল করেন। এরপর ৩৪, ৬৫ ও ৭৬ মিনিটে তিনবার জাল খুঁজে নেন ফোডেন। ৫৭ মিনিটে সিটির হয়ে অন্য গোলটি করেন ফরাসি উইঙ্গার শের্কি। এথেন্সের একমাত্র গোলদাতা স্তাভরোস পিলিওস।
পোর্তোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরু করেছিল সিটি। তবে পরের ম্যাচে পিএসজির কাছে হেরে ধাক্কা খায় তারা। এথেন্সের বিপক্ষে বড় জয় সেই হতাশা কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় ও এক হারে সিটির সংগ্রহ ছয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে দলের আক্রমণভাগে হালান্ডের ওপর নির্ভরশীলতার বাইরে নিজেদের গোল করার সামর্থ্যও দেখিয়েছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্বাগতিকরা। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে এথেন্সের রক্ষণে চাপ তৈরি করে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। প্রথমার্ধে সিটির আধিপত্য এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, বিরতির আগেই ব্যবধান বাড়িয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় দলটি।
১২ মিনিটে এন্সো ফের্নান্দেসের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলের জন্য দ্রুত এগিয়ে গিয়ে জালে পাঠান অ্যান্ডারসন। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সিটিতে যোগ দেওয়া এই ইংলিশ মিডফিল্ডারের জন্য গোলটি ছিল ক্লাবটির হয়ে প্রথম। শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ায় সিটির আক্রমণে আরও গতি আসে। এ সময় প্রতিপক্ষের রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এথেন্স।
৩৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে রিকো লুইসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে গোল করেন তিনি। গত শনিবার প্রিমিয়ার লিগে ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে গোল করেছিলেন এই মিডফিল্ডার। এথেন্সের বিপক্ষে গোল করে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় এথেন্স। ৫২ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে সিটির রক্ষণ ভেঙে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ব্যবধান কমান পিলিওস। স্কোর ২-১ হওয়ায় ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি সিটির খেলোয়াড়েরা।
৫৭ মিনিটে ফোডেনের পাস পেয়ে ডি-বক্সে জায়গা তৈরি করেন শের্কি। প্রতিপক্ষের রক্ষণ সামলে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলের পর আবারও দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিটি। এথেন্সের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও তাতে বড় ধাক্কা খায়।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে স্বাগতিকরা। ৬৫ মিনিটে আবারও গোল করেন ফোডেন। রিকো লুইসের পাস পেয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে হ্যাটট্রিকের আরও কাছে পৌঁছে যান ইংলিশ তারকা।
শেষ পর্যন্ত ৭৬ মিনিটে পূর্ণ হয় ফোডেনের হ্যাটট্রিক। ডান দিক থেকে বদলি খেলোয়াড় রায়ান ম্যাকঅ্যাডুর বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের কাছে পেয়ে নিখুঁত টোকায় জালে পাঠান তিনি। এক ম্যাচে তিন গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্যেরও জানান দেন এই মিডফিল্ডার।
হালান্ডকে ছাড়াই সিটির আক্রমণভাগের এমন কার্যকারিতা দলের জন্য স্বস্তির খবর। অ্যান্ডারসনের প্রথম গোল, শের্কির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং ফোডেনের হ্যাটট্রিক—সব মিলিয়ে ম্যাচে একাধিক ইতিবাচক দিক পেয়েছে দলটি। বিশেষ করে ফোডেনের গোলের ধারায় ফেরা সিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইপসউইচের বিপক্ষে গোলের পর এথেন্সের বিপক্ষে তিনবার জালে বল পাঠিয়ে তিনি নিজের আত্মবিশ্বাসও বাড়ালেন।
অন্যদিকে, এথেন্স দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমালেও সিটির আক্রমণ সামলাতে পারেনি। এই হারে প্রতিযোগিতায় তাদের দ্বিতীয় পরাজয় হলো। তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে তালিকার নিচের দিকে রয়েছে গ্রিক ক্লাবটি। আর বড় জয় নিয়ে সিটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার পথে এগোল।