ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনা—বিশ্বকাপ জিতেছেন, মাতিয়েছেন কোটি ভক্তকে। অথচ প্রতিযোগিতামূলক ব্যালন ডি’অর কখনোই জেতা হয়নি তাঁদের! এর পেছনে রয়েছে পুরস্কারটির তৎকালীন নিয়মের চমকপ্রদ ইতিহাস।
নিয়মই ছিল বাধা
১৯৫৬ সালে চালু হওয়া ব্যালন ডি’অর প্রথমদিকে কেবল ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত ছিল। ফলে ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপজয়ী পেলে এবং আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতা ম্যারাডোনা—দুজনই এই পুরস্কারের দৌড়ের বাইরে ছিলেন।
পেলে ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময় ব্রাজিলের সান্তোসে খেলেছেন। অন্যদিকে ইউরোপের বার্সেলোনা ও নাপোলিতে খেললেও আর্জেন্টাইন নাগরিক হওয়ায় ম্যারাডোনাও পুরস্কারটির জন্য যোগ্য ছিলেন না।
পরে বদলেছে নিয়ম
১৯৯৫ সালে ইউরোপের ক্লাবে খেলা সব দেশের ফুটবলারদের জন্য ব্যালন ডি’অর উন্মুক্ত করা হয়। ওই বছর লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ পুরস্কার জেতেন। ২০০৭ সালে নিয়ম আরও সম্প্রসারিত হওয়ায় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ফুটবলারদের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত হয়। কিন্তু তত দিনে পেলে ও ম্যারাডোনার প্রতিযোগিতামূলক ক্যারিয়ার শেষ।
পেয়েছিলেন সম্মানসূচক পুরস্কার
প্রতিযোগিতামূলক ব্যালন ডি’অর না জিতলেও দুজনই পেয়েছেন বিশেষ স্বীকৃতি। ১৯৯৫ সালে ম্যারাডোনা এবং ২০১৩ সালে পেলে সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর লাভ করেন। তবে এসব পুরস্কার আনুষ্ঠানিক বিজয়ীদের তালিকায় গণ্য হয় না।
অন্যদিকে লিওনেল মেসি আটবার এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।
পেলে ও ম্যারাডোনার এই ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়—ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল ব্যক্তিগত ট্রফির সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না।