প্রতি ইভেন্টের ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি
অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ফলাফল নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সিনিয়র কিংবা জুনিয়র—বিভিন্ন আসরেই টাইমিং ও বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক আসর আগে নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ফল নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। এবার সেই বিতর্ক এড়াতে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন।
আগামী শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন জানান, ফটোফিনিশের মাধ্যমে নির্ভুল ও দ্রুত ফল প্রকাশে সাতজন বিএসসি প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি থাকবে তিন থেকে চারটি ডিসপ্লে বোর্ড, যাতে দর্শক ও সংশ্লিষ্টরা সহজেই ফল দেখতে পারেন। আলী ইমাম তপন বলেন, ‘ফটোফিনিশিংয়ের নিখুঁত ও দ্রুত ফলাফলের জন্য সাতজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার থাকবেন। তিন-চারটি ডিসপ্লে বোর্ড থাকবে, যাতে আপনারা সবাই দেখতে পারেন। প্রতি ইভেন্ট শেষ হওয়ার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ফলাফল আসবে।’
অ্যাথলেটিক্সকে বলা হয় ‘মাদার অব অল ডিসিপ্লিনস’। আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে খেলাটির জনপ্রিয়তা ছিল, দক্ষিণ এশীয় পর্যায়েও অর্জন ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে সময়ের সঙ্গে খেলাটির প্রসার ও অবকাঠামো নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফেডারেশনের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি আসন্ন এসএ গেমসে পদক জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্সের জন্য স্বতন্ত্র ভেন্যু ও দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ মিলিয়ে পাকিস্তান এসএ গেমসে দশটি পদকের লক্ষ্য ঠিক করেছি। অ্যাথলেটিক্সের আলাদা ভেন্যু প্রয়োজন। নিবিড় ও দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের জন্য স্থায়ী আবাসন ক্যাম্প দরকার।’
তিন দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৪০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবল মাঠের সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে থ্রো ইভেন্টগুলো আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে। প্রতিটি ইভেন্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা যথাক্রমে ছয় হাজার, পাঁচ হাজার ও তিন হাজার টাকা পুরস্কার পাবেন। রেকর্ড গড়তে পারলে থাকছে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার।
এবারের প্রতিযোগিতার মূল পৃষ্ঠপোষক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া ওরিয়ন গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, শেলটেক, টিকে গ্রুপসহ ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নে আরও প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ফেডারেশনের সভাপতি ও নোমান গ্রুপের কর্ণধার আব্দুল্লাহ জাবের। তিনি বলেন, ‘অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা চাই। এজন্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ছোট হলেও যেন অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে থাকে।’
সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে একাধিক পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের লোগো থাকলেও সরকারি ছুটি চলমান থাকায় ফেডারেশনের কর্মকর্তারা নিজেদের অর্থে কিছু ব্যয় বহন করছেন বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন। তিনি বলেন, ‘সামারে ৪০-৫০ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতির আগমনে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় খানিকটা ব্যয় রয়েছে। আমরা অতিরিক্ত কোনো খরচ করছি না।’