জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ আইনজীবী গ্রায়েম এল. হল। এ জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের এই কাউন্সেল।
রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালমান এফ রহমানের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিবের কাছে আবেদন করেন গ্রায়েম এল. হল। আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১১(৮) ধারা উল্লেখ করে সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে গ্রায়েম এল. হল বলেন, বাংলাদেশ থেকে নিয়োজিত স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি তিনি সালমান ফজলুর রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকতে চান। আবেদনের সঙ্গে নিজের পেশাগত প্রোফাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন মুনসুরুল হক চৌধুরী। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য প্রথমে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি এবং পরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে ওই আবেদনের বিরোধিতা করেছিল প্রসিকিউশন।
সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১২ জানুয়ারি এই দুই আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর অভিযোগগুলো আমলে নেওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক ভূমিকা রেখেছিলেন। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই ফোনে কথোপকথনের সময় আন্দোলনকারীদের দমন এবং কারফিউ জারির বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। প্রসিকিউশনের দাবি, তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনায় বহু ছাত্র-জনতা নিহত হন।
দ্বিতীয় অভিযোগে ২৩ জুলাই মিরপুরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের জ্ঞাতসারে ও প্ররোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ চালানোর কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগে ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এলাকায় ১২ জনকে হত্যার ঘটনায় কারফিউ জারি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগ করা হয়েছে। পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে পরিকল্পনা ও নির্দেশনার মাধ্যমে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৬ জনকে হত্যার ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সালমান এফ রহমানের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিরক্ষা উপস্থাপন করা হবে, তা মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে স্পষ্ট হবে। বিদেশি আইনজীবী হিসেবে গ্রায়েম এল. হলকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেটিও এখন বার কাউন্সিল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।