জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে এবার রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তৎপরতা। এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। বিএনপিও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে কাকে সমর্থন দেবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামীও প্রার্থী নির্ধারণ করে মাঠ গোছাচ্ছে। ফলে নির্বাচনী সূচি ঘোষণার আগেই রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণে সম্ভাব্য ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, ভোট হবে দলীয় প্রতীক ছাড়া। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। তবে রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক সমর্থন ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় যোগাযোগ এবং সংগঠনের শক্তি হয়ে উঠতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর কৌশল অবশ্য এক নয়। এনসিপি সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ে নামছে। জামায়াতও নিজস্ব প্রার্থী ও সংগঠন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণার বদলে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য কাউকে সমর্থন দেওয়ার কৌশল বিবেচনা করছে। এই তিন ধরনের অবস্থানই রাজধানীর নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১৯৬ দশমিক ২২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত; এর ১০টি অঞ্চলে রয়েছে ৫৪টি ওয়ার্ড। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৭৫। দুই সিটির এলাকাগত বিস্তার ও জনবসতির ধরনও আলাদা। উত্তরে উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, ভাটারা ও তেজগাঁওয়ের মতো এলাকার পাশাপাশি রয়েছে দ্রুত সম্প্রসারিত আবাসিক অঞ্চল। দক্ষিণে পুরান ঢাকা, লালবাগ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, কামরাঙ্গীরচর এবং নতুন সম্প্রসারিত এলাকার নাগরিক সমস্যার ধরন এক নয়।
তাই শুধু কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিচিতি দিয়ে দুই সিটির নির্বাচনী বাস্তবতা ব্যাখ্যা করা কঠিন। ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়, ভোটারদের কাছে পৌঁছানো এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা—সবই প্রার্থীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিএনপির সম্ভাব্য দুই প্রার্থী: তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন
বিএনপির কৌশল সমর্থনের রাজনীতি
ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনসহ কয়েকজন পরিচিত নেতার নাম আলোচনায় এলেও তাঁদের কাউকেই চূড়ান্ত প্রার্থী বা সমর্থনপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
বিএনপির কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া। দলটির নেতারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং একক প্রার্থীর পক্ষে সংগঠনকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই কৌশলে বিএনপির সামনে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দুই সিটিতে এমন প্রার্থী বেছে নেওয়া, যাঁর ব্যক্তিগত পরিচিতি ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, দলীয় সমর্থন চূড়ান্ত হলে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সেই প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা। একাধিক নেতা বা সমর্থক প্রার্থী মাঠে থাকলে সমর্থন বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপির রাজনৈতিক যোগাযোগ ও স্থানীয় সংগঠন রয়েছে। কিন্তু বৃহৎ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় সমর্থনকে কার্যকর করতে হলে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমন্বয়, প্রচার কার্যক্রম এবং ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সেই সাংগঠনিক প্রস্তুতিও দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এনসিপির দুই মেয়র প্রার্থী: ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী
এনসিপি ইতোমধ্যে দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় সভার পর এই ঘোষণা আসে।
প্রার্থী ঘোষণার আগে দুজনের ভোটার এলাকা পরিবর্তনও আলোচনায় আসে। আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ থেকে উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তর থেকে দক্ষিণে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেন। তাঁদের ঘোষিত প্রার্থিতার সঙ্গে এই পরিবর্তনের সময়গত সম্পর্ক থাকলেও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী প্রার্থিতার সব শর্ত পূরণ ও মনোনয়নপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়াই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এনসিপির প্রস্তুতি শুধু মেয়র প্রার্থী ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। দলটি সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাই, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন সক্রিয় করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে সিটি নির্বাচনকে দলটি নগর রাজনীতিতে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি বিস্তারের একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছে।
দক্ষিণ সিটির সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নগরবাসীর সেবা ও পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—ঢাকার জন্য কে কতটা ভালো সেবা ও পরিবর্তন দিতে পারেন, সেই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি সারজিস আলমও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়াকে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন, নেতৃত্ব এবং জনসম্পৃক্ততা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির জন্য চ্যালেঞ্জও কম নয়। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পরিচিতি থাকলেও বিস্তৃত নগর এলাকায় নিয়মিত প্রচার, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে কাজ এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নির্বাচনী কাঠামো গড়ে তোলা আলাদা সাংগঠনিক প্রস্তুতি দাবি করে। প্রার্থী ঘোষণার পর এই প্রস্তুতি কতটা কার্যকরভাবে মাঠে নেওয়া যায়, তা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে।

জামায়েত ইসলামীর মেয়র প্রার্থী: ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে আবু সাদিক কায়েম
উত্তরে সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণে সাদিক কায়েম
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েমকে সামনে এনেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দুই সিটির জন্য তাঁদের নাম জানান।
সেলিম উদ্দিনের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জামায়াতের নগর সংগঠনে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। অন্যদিকে সাদিক কায়েম ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন এবং ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে দুই সিটিতে দলটির প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ধরনে পার্থক্য রয়েছে—উত্তরে নগর সংগঠনের নেতৃত্ব, দক্ষিণে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগুলোর স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সমঝোতা থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে শরিক দলগুলো নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে মাঠে থাকতে পারে। ফলে ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের লক্ষ্য হবে নিজস্ব প্রার্থী ও সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো।
তবে প্রার্থী ঘোষণা বা নাম নির্ধারণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি শেষ হয় না। ৫৪ ও ৭৫টি ওয়ার্ডজুড়ে প্রার্থীর পক্ষে কার্যকর প্রচার, কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয়, স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে ধারণা এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দলীয় প্রতীক নেই, নগর সমস্যাই বড় পরীক্ষা
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও ভোটারদের দৈনন্দিন সমস্যাগুলোই শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে আসতে পারে। জলাবদ্ধতা, মশা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত ও সড়ক দখল, যানজট, খাল-জলাধার সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবা সহজ করা—এসব বিষয়ে প্রার্থীদের পরিকল্পনা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
দুই সিটির ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা এক নয়। উত্তরের পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা, ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং দ্রুত সম্প্রসারিত জনপদের সমস্যা আলাদা। দক্ষিণে পুরান ঢাকার ঘনবসতি, বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চল, নদীতীরবর্তী এলাকা এবং নতুন সম্প্রসারিত অঞ্চলের প্রয়োজনও ভিন্ন। ফলে দুই সিটির জন্য একই ধরনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট হবে না; ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে প্রার্থীদের।
এখানে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিতি একজন প্রার্থীকে ভোটারের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু বিস্তৃত নির্বাচনী এলাকায় প্রচার চালানো এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে সংগঠন প্রয়োজন। আবার সাংগঠনিক সমর্থন থাকলেও নাগরিক সমস্যার বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে সেই সমর্থন কতটা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত নয়।
এনসিপি নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ও তরুণ নেতৃত্ব সামনে রেখে সরাসরি প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াত নগর সংগঠন ও ছাত্ররাজনীতির পরিচয়কে কাজে লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সমর্থনের কৌশল বিবেচনা করছে। তিন পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাব্য কাঠামোটি স্পষ্ট হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবদুল লতিফ মাসুমের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দলীয় প্রতীক না থাকায় ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশা নিয়ন্ত্রণের মতো নগর সমস্যায় প্রার্থীদের অবস্থানও ভোটারদের বিবেচনায় আসতে পারে।
তবে এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি এবং বিএনপির সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থীর নামও চূড়ান্ত নয়। প্রচারপর্ব শুরু হলে প্রার্থীদের কর্মসূচি, নগর পরিচালনার পরিকল্পনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততার ধরন আরও স্পষ্ট হবে। তার আগে উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনী সমীকরণকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আপাতত তফসিলের আগেই তিন রাজনৈতিক শক্তির প্রস্তুতি রাজধানীর দুই সিটি নির্বাচনকে ঘিরে আগাম রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি করেছে।