উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ করা জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশ ও মানুষের স্বার্থে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বাজেট ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, অনেকগুলো টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই টার্গেটগুলো অর্জনের জন্য অবশ্যই সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।'
সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা অনেক সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগকে ইতিবাচকভাবে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত। তিনি বলেন, 'আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ আমাদের দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন সেই কাজটি আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।' দায়িত্ব পালনের সুযোগ চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যে যখন যে পদে বা দায়িত্বে থাকেন, তাকে সেই সুযোগ দেশের ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।'
সভা শেষে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।'
কর্মকর্তাদের খোলামেলা মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উৎসাহ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আবারও বসার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও গঠনমূলক মতামত তুলে ধরবেন। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।