রাজনীতির পালাবদল হয়েছে, বদলেছে স্থানীয় ক্ষমতার সমীকরণ। কিন্তু রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা কথিত ‘বড় ভাই’ সংস্কৃতি থামেনি। কোনো এলাকায় পুরোনো প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে, কোথাও আবার নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলছে অপরাধী চক্র। গ্যাংয়ের নাম, সদস্য কিংবা আশ্রয়দাতার পরিচয় বদলালেও দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ছিনতাই ও সংঘর্ষে কিশোরদের ব্যবহার করার অভিযোগ থেকে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একাধিক স্থাপনায় হামলা, জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করতে নতুন করে তৎপর হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্যাংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে তালিকা তৈরি আর অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে চিহ্নিত করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই এখন বড় পরীক্ষা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সংবাদপ্রতিবেদনগুলোতে গ্যাংয়ের সংখ্যা সম্পর্কেও ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রাজধানীর ৫০ থানায় ১১৮টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার কথা বলা হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আরেক প্রতিবেদনে ডিএমপির তথ্যের বরাতে ১২২টি অপরাধী গ্রুপের কথা উঠে আসে। সংখ্যার এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, গ্যাংয়ের সংজ্ঞা, তালিকা হালনাগাদের সময় এবং কিশোর গ্যাং ও বৃহত্তর অপরাধী গ্রুপকে আলাদা করে গণনার বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি।
পৃষ্ঠপোষক বদলায়, অপরাধের ধরন থাকে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অপরাধ বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংয়ের সব সদস্য একই বয়সের নয়, আবার সব গ্রুপের কাঠামোও এক রকম নয়। কোথাও কিশোরদের নিয়ে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক দল গড়ে ওঠে; কোথাও প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীরা তাদের ব্যবহার করে। কিছু চক্রের বিরুদ্ধে মাদক সরবরাহ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল এবং প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় কিশোররা সামনে থাকলেও অর্থ, অস্ত্র, যোগাযোগ ও সুরক্ষার জোগানদাতারা আড়ালে থেকে যেতে পারেন।
রাজনৈতিক পরিচয় এ ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে লোক জড়ো করা, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো কিংবা স্থানীয় আধিপত্য ধরে রাখার কাজে কিশোরদের ব্যবহার করার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলেই তিনি গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নির্দিষ্ট অভিযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ, অপরাধে নির্দেশনা দেওয়ার প্রমাণ, মামলা ও তদন্তের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ঢাকার মিরপুর, পল্লবী, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, রামপুরা, গেন্ডারিয়া, হাজারীবাগ ও লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডিএমপির তথ্যের বরাতে বলা হয়, মিরপুর বিভাগে ৩২টি অপরাধী গ্রুপ শনাক্ত হয়েছে; এর মধ্যে পল্লবী থানার এলাকায় ১৪টি। তেজগাঁও বিভাগেও একাধিক গ্রুপ সক্রিয় থাকার তথ্য দেওয়া হয়। একই প্রতিবেদনে মোহাম্মদপুর এলাকায় গ্যাং-সংশ্লিষ্ট সংঘর্ষে প্রাণহানির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব সংখ্যা ও ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের হালনাগাদ নথি এবং মামলার তথ্যই চূড়ান্ত যাচাইয়ের ভিত্তি হওয়া উচিত।
বড়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ছাড়া অভিযান অসম্পূর্ণ
পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। ১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি বলেন। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. সায়েদুর রহমান মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্যাং ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেছেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, সশস্ত্র অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ নিয়মিত অপরাধীদের তালিকা হালনাগাদ করে এবং গ্রেপ্তারও চলছে। অন্যদিকে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ১২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশ ও র্যাবের অভিযান জোরদারের ঘোষণা দেন। তিনি এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও চান।
২ অক্টোবর রাজধানীতে এক ছায়া সংসদে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রভাবশালী মহল কিশোর গ্যাংকে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ রয়েছে। তিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নির্মূলের ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্যে কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার; তবে ঘোষিত সময়ের মধ্যে কতটি গ্যাং ভাঙা হলো, কতজন পৃষ্ঠপোষকের বিরুদ্ধে মামলা হলো এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি কতটা কমল—তা দিয়ে অগ্রগতি পরিমাপ করতে হবে।
কি বলছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান ও পুলিশবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওমর ফারুকের মতে, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কিশোরদের ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে। যারা গ্যাং সংগঠিত করে, অর্থ জোগায় কিংবা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের আইনের আওতায় না আনলে একই এলাকায় নতুন সদস্য নিয়ে আবারও অপরাধী দল গড়ে উঠতে পারে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধে ব্যবহার করা প্রাপ্তবয়স্কদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কিশোররা জন্মগতভাবে অপরাধী হয়ে ওঠে না; বিভিন্ন পরিস্থিতি ও অপরাধী নেটওয়ার্কের প্রভাবে ধাপে ধাপে অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদক সরবরাহ, চাঁদাবাজি কিংবা পেশিশক্তি প্রদর্শনের মতো কাজে যুক্ত হওয়ার পর প্রভাবশালী অপরাধী চক্রের আশ্রয়ে আরও গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাঁর বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, কিশোরদের অপরাধে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি বুঝতে হবে এবং তাদের ব্যবহারকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে বেকারত্ব, পারিবারিক ও সামাজিক তদারকির দুর্বলতা, মাদক ব্যবসা, স্থানীয় আধিপত্য এবং রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থ কাজ করতে পারে। তাঁর মতে, শুধু গ্রেপ্তার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। যারা কিশোরদের ব্যবহার করে অপরাধ থেকে লাভবান হয়, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কিশোরদের শিক্ষা, কাউন্সেলিং, কারিগরি প্রশিক্ষণ, পরিবারভিত্তিক তদারকি ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এই তিন বিশ্লেষকের বক্তব্যের মধ্যে একটি অভিন্ন বিষয় রয়েছে: অপরাধে জড়িত কিশোরকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি অপরাধী নেটওয়ার্কের প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রক, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধ থেকে ফেরানোর সুযোগ না থাকলে গ্রেপ্তার ও মুক্তির পর একই চক্রে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
শিশু আইন ও বাস্তব প্রয়োগের প্রশ্ন
কিশোরদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনা করাও জরুরি। শিশু আইন, ২০১৩-তে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর জন্য পৃথক বিচারপ্রক্রিয়া, জামিন এবং বিকল্প ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। আইনে শিশুর বয়স, অভিযোগের প্রকৃতি ও মানসিক-আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নির্দিষ্ট শর্তও রেখেছে। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে আটক করা, পরিবারের জিম্মায় দেওয়া বা আদালতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেবল সাধারণ ধারণার ভিত্তিতে নয়, আইনের বিধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, শিশু আইনের সুরক্ষাকে অপরাধে প্রাপ্তবয়স্কদের দায় এড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা যায় না। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি প্রমাণসাপেক্ষে কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করেন, অর্থ বা অস্ত্র সরবরাহ করেন, নির্দেশনা দেন কিংবা অপরাধের পর তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তে আসা উচিত। তবে এমন অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, ঘটনাস্থলের তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ প্রয়োজন।
তালিকা নয়, জবাবদিহিই হবে সাফল্যের মাপকাঠি
কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের নতুন নির্দেশনা ও সরকারের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাফল্য নির্ধারিত হবে অভিযানের সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং অপরাধের পুনরাবৃত্তি কমেছে কি না, পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক মামলা হয়েছে কি না এবং অপরাধে জড়িত কিশোরদের পুনর্বাসন কতটা কার্যকর হয়েছে—এসব সূচকে।
এ জন্য প্রতিটি থানায় গ্যাংয়ের হালনাগাদ তালিকা, সদস্যদের বয়স, অপরাধের ধরন, অস্ত্র ও মাদকের উৎস, অর্থের জোগান এবং প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রকদের বিষয়ে পৃথক তথ্যভান্ডার থাকা দরকার। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে একই মানদণ্ডে তদন্ত ও আইন প্রয়োগ না হলে অভিযানকে বেছে বেছে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ থেকে মুক্ত রাখা কঠিন হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনকেও দায়িত্ব নিতে হবে। কিশোরদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা স্থানীয় বিরোধে ব্যবহার করা বন্ধে দলগুলোর নিজস্ব শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থাও জরুরি। খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে।
রাজনীতির পালাবদলে স্থানীয় ক্ষমতার কেন্দ্র বদলাতে পারে। কিন্তু অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যদি ব্যক্তি ও দলের পরিচয় দেখে নেওয়া হয়, তাহলে ‘বড় ভাই’ সংস্কৃতি টিকে থাকার সুযোগ পাবে। তাই কিশোর গ্যাং নির্মূলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—সামনের সারিতে থাকা কিশোরদের পাশাপাশি আড়ালে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রকদেরও প্রমাণের ভিত্তিতে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং অপরাধের চক্র থেকে কিশোরদের স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে আনা।