প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করে কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা জাতীয় সংসদে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ তা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়েও কোনো কোনো মহল বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেই ঐক্যটি তৈরি করতে চাচ্ছে, সকলকে নিয়ে যেখানে চলতে চাইছে, আমরা দেখছি একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’
গণতন্ত্রকামী সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আপনারা কেউ চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেটিকে বিতর্কিত করবেন না। কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে সংসদে তা তুলে ধরুন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাঁদের প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছে। সেখানে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে জনগণ এবং রাষ্ট্রের জন্য যা কল্যাণকর, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, সরকার শুধু যারা ভোট দিয়েছে, তাদের জন্য নয়; যারা ভোট দেয়নি, তাদেরও সরকার হতে চায়। দেশের সব এলাকার উন্নয়ন অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সুষমভাবে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।
তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সব ধর্ম ও মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। পারস্পরিক ঐক্য ও সহযোগিতা বজায় রেখে এগিয়ে যেতে পারলেই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।
রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা
রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে দুই সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত একটি সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে জেলা পরিষদের মাধ্যমে রংপুরের বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি বলেন, মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় সেতু, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ যেসব অবকাঠামো দরকার, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রথম রংপুর সফর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুই পাশে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও গাড়ি থেকে হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
দুপুর ১২টার দিকে তিনি রংপুরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে পৌঁছান। সেখানে মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা সভাপতি রাম জীবন কুণ্ডু, রংপুর মহানগর পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় ও সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
পূজামণ্ডপে প্রবেশ করে পূজারি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
রংপুরের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে সেখান থেকে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের মূল উৎসব শেষ হবে।