সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর সৃষ্ট পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দেশটিতে ফ্লাইট চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৬ অক্টোবর ঢাকা-রিয়াদ রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু হচ্ছে। অন্যদিকে, ঢাকা-দাম্মাম রুটে গত বুধবার থেকে আবারও ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। তবে হামলাজনিত বিধিনিষেধের প্রভাবে ঢাকা-সৌদি রুটে সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১৩৪টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী।
বুধবার, ২১ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনার তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলাজনিত পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় রিয়াদগামী ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে রিয়াদের উদ্দেশে ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, ঢাকা-দাম্মাম রুটে ২১ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। এ সময় প্রতিদিন সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে উড়োজাহাজ ছেড়ে যাবে। এসব ফ্লাইটে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।
জেদ্দায় সূচি পরিবর্তন, স্বাভাবিক মদিনা রুট
সৌদি আরবের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ সচল রাখতে ঢাকা-জেদ্দা রুটের ফ্লাইট সূচিতেও পরিবর্তন এনেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এরপর ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে একটি করে ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-মদিনা রুটে ১৮ অক্টোবর থেকে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করছে। এ রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মদিনাগামী ফ্লাইটের কার্যক্রম ও সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে বিমান।
১৩৪ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিত, বিপাকে ২০ হাজার যাত্রী
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কয়েকটি রুটে ফ্লাইট চালু ও সূচি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সৌদি আরবকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ঢাকা-সৌদি রুটে সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ১৩৪টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী।
বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ৬১টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের সূচি ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে না পেরে অনেককে বিকল্প ফ্লাইট কিংবা নতুন সময়সূচির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি এবং ইন্ডিগো এয়ারের ২৮টি রয়েছে।
এ ছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বেবিচক
ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নতুন সময়সূচি নির্ধারণে কাজ করছে বেবিচক। তবে সব রুটে ফ্লাইট চলাচল কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ যাত্রীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, ফ্লাইট চালুর ঘোষণা এলেও পরিস্থিতির পরিবর্তনে সূচিতে আবারও সংশোধন আসতে পারে।