সরকারের ১৮০ দিনে কোনো ক্ষেত্রেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপকমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের ১৮০ দিনে অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকার পুরনো স্বৈরাচারী কায়দায় ফিরে যাচ্ছে। সর্বত্র লুটপাট ও দলীয়করণ চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসলে কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বলে সরকার দলীয় সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী করেছে। নির্বাচনের আগে ক্ষমতা গ্রহণের পর দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হলেও দুই মাসের মধ্যেই দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদার ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। ঢাকা শহরে চুলা জ্বলছে না, শিল্পকারখানার উৎপাদন কমেছে। জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব গণপরিবহন, সেচ ও সারসহ বিভিন্ন খাতে পড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৬৭০টি বিএনপির কারণে ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহিতার ঘাটতির অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক বসানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ-পদায়ন ও স্বজনপ্রীতি চলছে।
কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতেও সরকার ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, কৃষকরা সার পাচ্ছেন না এবং বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে হাম মহামারির সংকটও পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষায়িত হাসপাতাল গঠনের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি।
শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের দখলদারিত্বের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী মতাদর্শের ওপর হামলা হলেও কোনো বিচার হয়নি। সরকার সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, গুম তদন্তে আস্থাহীনতা, কার্যকর মানবাধিকার কমিশন না থাকা এবং সাংবাদিকদের হয়রানির কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট ভারতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন দেশটির সরকারের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার রায়ের বিচার কার্যকর করার পর ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নতির দিকে নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার পুরনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে পড়তে হবে। ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় লং মার্চ থেকে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়া হবে বলেও জানান এনসিপির আহ্বায়ক।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামসহ দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শু/আজা