২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে পৃথক দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তিনি। সোমবার ঢাকার দুটি পৃথক আদালত বনানী ও মিরপুর থানার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
বনানীর সোহাগ নামে এক কিশোরকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত এবং মিরপুরে মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা গত ২৪ ও ২৫ আগস্ট পৃথকভাবে শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেন।
সোমবার প্রথমে শাহজাহান ওমরকে মিরপুরের মামলায় শুনানির জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় আদালতের বাইরে থাকা কয়েকজন তাকে দেখে ‘মীর জাফর’ বলে সম্বোধন করেন। কেউ কেউ ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলেও দুয়ো দেন।
আদালতে হাজিরা দিতে আসা শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদল নেতা মহসিন শেখ বলেন, শাহজাহান ওমরের জনপ্রিয়তা বিএনপির জন্য ছিল। সুযোগ বুঝে তিনি দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তার ভাষায়, যুগে যুগে ‘মীর জাফরদের’ পরিণতি এমনই হয়।
পরে শুনানি শেষে মিরপুরের মামলায় শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর তাকে সেফাতুল্লাহর আদালতে নেওয়া হলে শুনানি শেষে বনানীর মামলাতেও একই আদেশ দেওয়া হয়।
বিএনপি থেকে বেরিয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন শাহজাহান ওমর। সরকার পতনের পর ওই বছরের ২১ নভেম্বর ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মিরপুরের মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মিরপুর-১০ নম্বরের সুইমিং পুল ও ফায়ার সার্ভিস ভবনের সামনে সড়কে অবস্থান করছিলেন মুক্তার। এ সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে তিনি আহত হন। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে মুক্তার এ ঘটনায় মামলা করেন।
অন্যদিকে সোহাগকে হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বনানী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই দিন দুপুর ২টার দিকে তার বুকে দুটি গুলি লাগে। পরে তাকে মহাখালীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। এরপর শমরিতা হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে একটি গুলি বের করা হয়। অপর গুলিটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দ্বিতীয় গুলিটিও বের করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ২১ জুলাই সোহাগের বাসায় গিয়ে হামলা করা হয়। পরে এ ঘটনায় তার বাবা বনানী থানায় মামলা করেন।